ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার রক্ষায় তারেক রহমানের জরুরি বার্তা

মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ফেসবুকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, মানবাধিকার আমাদের প্রতিদিনের জন্য অপরিহার্য এবং এটি শুধুমাত্র বিশেষ কোনো দিনের বিষয় নয়। তাঁর পোস্টে দেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের মানুষ যেন কখনো অধিকারহীন না হয়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এই বার্তা তিনি দেন।

তারেক রহমানের পোস্টের হুবহু তলে ধরা হলো:

১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকার দিবস’। এটি জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য — ‘মানবাধিকার : আমাদের প্রতিদিনের জন্য অপরিহার্য’।

এই বছরের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক অধিকার হারানো নির্যাতিত মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোথাও যেন ভবিষ্যতে আর কেউ মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য মানবাধিকার রক্ষা আমাদের প্রতিদিনের জন্য অপরিহার্য।

আমাদের দেশ দীর্ঘ দেড় দশক ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালো অধ্যায় পার করেছে, যখন মানবাধিকার সমাধিস্থ করা হয়েছিল। গণতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল, রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নেয়া হয়েছিল হাতের মুঠোয়। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়িয়েছিলেন –তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক কিংবা সাধারণ মানুষ যেই হোন না কেন, মিথ্যা মামলা, কারাবাস, শারীরিক নির্যাতন, গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে যারা নির্দয় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নির্মম নিপীড়ণে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের আত্মার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। যারা এখনো নির্যাতিত ও নিপীড়িত, তাদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সহমর্মিতা।

আজ আমরা এক নতুন যাত্রায় আছি — গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকারের সুরক্ষার যাত্রা। আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা এমন হতে হবে, যেখানে মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, দারিদ্র্য আজ বিশে^র সবচেয়ে গুরুতর মানবাধিকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দারিদ্র্য দুরীকরণ একটি অর্জনযোগ্য লক্ষ্য।

‘মানবাধিকার দিবস’-এর এ বছরের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানবাধিকার কোনো বিশেষ দিনের বিষয় নয়, এটি প্রতিদিনের মানবাধিকার হরণের প্রতি লক্ষ্য রাখা ও প্রতিকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

দেশের আপামর জনগণের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাবন্দি থেকে, মিথ্যা মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে যে নির্মম পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন, তা এক চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই অধ্যায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কখনো থেমে থাকা উচিত নয়। ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদের বিজয় অনিবার্য। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অসুস্থ দেশনেত্রীর আশু সুস্থতা কামনা করছি।

এই মুহূর্তে দেশের মানুষ মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ। মানবাধিকার সুরক্ষিত রেখে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এ যাত্রায় সবার এগিয়ে আসতে হবে, জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকার দিবসে এটাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন