ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নৌবাহিনীর ৯৯ সদস্য প্রেরণ করেছে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনাইটেড নেশন্স মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)–এ দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৯৯ সদস্যের একটি কন্টিনজেন্ট দক্ষিণ সুদানের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তারা রওনা হন।

এ কন্টিনজেন্টটি সেখানে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট–১০–এর স্থলাভিষিক্ত হবে। নৌবাহিনী আরও জানায়, আগামী ১৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৯ জন সদস্য একই মিশনে যোগ দেবেন।

জাতিসংঘের নির্দেশনায় পরিচালিত এই মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে নদীপথে জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তাবাহী বার্জগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, নৌপথে জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণে সহযোগিতা এবং স্থানীয় জনগণকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

এ ছাড়া বার্জে কর্মরত বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা বিধান, দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং মিশন সদস্যদের রসদ সামগ্রী দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজগুলোও নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করে আসছে ইউনিটটি।

উল্লেখ্য, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ ম্যান্ডেট অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আহত সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং ডুবুরি কার্যক্রমেও তারা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে।

দক্ষিণ সুদানের পাশাপাশি লেবাননের ভূমধ্যসাগরে উপমহাদেশের একমাত্র মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সংগ্রাম’ দায়িত্ব পালন করছে। নীল নদের ১ হাজার ৩১১ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তারা এখন পর্যন্ত ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন (অপারেশন লাইফ লাইন) সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

শান্তিরক্ষা মিশনে নৌবাহিনীর এই অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনামকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন