ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে। নতুন আইন অনুযায়ী প্রযুক্তি কম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হবেতারা যেন নাবালকদের জন্য নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ রাখে। এবার বাবা-মায়ের অনুমতিও কার্যকর হবে না। এই আইন কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস জানিয়েছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘদিন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল স্বেচ্ছায় সমস্যা সমাধানের জন্য, কিন্তু তা যথেষ্ট হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর নকশা ও এলগরিদম শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছেএই কারণেই কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযোগে বলা হয়েছে, মেটা, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কিশোরদের আসক্তি তৈরি করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাপ ডিজাইন করেছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামের বিউটি ফিল্টার কিশোরদের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ভাবনা ও খাদ্যজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণা বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ব্যবহারে কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়, আত্মমর্যাদা কমে এবং আসক্তির মতো আচরণ দেখা দিতে পারে। এছাড়া যৌন শোষণ, বিভ্রান্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্টের ঝুঁকিও বাড়ছে।

বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইনকে ‘ব্ল্যাংকেট সেন্সরশিপ’ হিসেবে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, কিশোররা কখন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করবে, তা ঠিক করার দায়িত্ব অভিভাবকের। তবুও কিছু কোম্পানি ঝুঁকি কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছেইউটিউব এআই ব্যবহার করছে বয়স অনুমানের জন্য, স্ন্যাপচ্যাট চালু করেছে ১৩১৭ বছরের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট এবং মেটা চালু করেছে ইনস্টাগ্রাম টিন অ্যাকাউন্ট, যেখানে অশ্লীল কনটেন্ট সীমিত এবং অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ। তবে গবেষণা বলছে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইন প্রণয়নের পেছনে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও হুইসলব্লোয়ারের সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মামলায় বলা হয়েছে, কোম্পানির কিছু নেতা কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে রেখেছেন। একটি অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ এমন ফিল্টার সরানোর প্রস্তাব বাতিল করেছিলেন, যা কিশোরদের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ভাবনার ঝুঁকি কমাত।

অন্তর্জাতিকভাবে এই আইন নজর কাড়ছে। যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিজি, গ্রিস, মাল্টা, ডেনমার্ক ও নরওয়ের কর্মকর্তারা অনুরূপ নীতি প্রণয়নের পরামর্শ চাইছেন। সিঙ্গাপুর ও ব্রাজিলও আইনটির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন অন্য দেশের জন্য উদাহরণ স্থাপন করতে পারে।

আইনের অধীনে গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি ব্যবহারকারীর আচরণ বদলাতে সম্পূর্ণরূপে যথেষ্ট নাও হতে পারে, তবে কমপক্ষে কোম্পানিগুলোকে আইন মানতে প্রভাবিত করবে।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন নীতি কিশোরদের সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে বাড়তে থাকা দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে। আইন কার্যকর হলে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের অ্যাক্সেস সীমিত হবে এবং এটি সামাজিক মাধ্যমের জন্য কঠোর তদারকির পথ সুগম করবে। পাশাপাশি, এই নীতি বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রণ নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন