ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তে ফের র’ক্তক্ষয়ী উ’ত্তেজনা

চার মাস স্থিতাবস্থা বজায় থাকার পর গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকায় আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। মাত্র দু’দিনের সংঘাতে দুই দেশের কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন কম্বোডিয়ার নাগরিক এবং একজন থাই সেনা সদস্য বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকায় থাই বাহিনীর ছোড়া গোলায় দুই বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। এ নিয়ে দু’দিনে কম্বোডিয়ায় মোট নিহত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ছয়ে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে নিহত ব্যক্তি দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্য।

বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেন, থাইল্যান্ড সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের নামে কম্বোডিয়ার নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী জানায়, ত্রাত প্রদেশের উপকূলবর্তী জলসীমায় কম্বোডীয় সৈন্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে থাই নৌবাহিনী ধাওয়া দেয়, ফলে কম্বোডীয় বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। থাই পক্ষের দাবি, কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় ভারী অস্ত্র, স্নাইপার মোতায়েন, সুরক্ষিত ঘাঁটি নির্মাণ এবং পরিখা খননসহ উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসবকে তারা থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রতি গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

দুই দেশের মধ্যে এই দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্র ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ বা পান্না ত্রিভুজ নামের একটি ভূখণ্ড। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানা মিলিত এই অঞ্চল প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনার জন্য পরিচিত। দীর্ঘ ১১৮ বছর ধরে উভয় দেশই এই ভূখণ্ডকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। ১৯০৭ সালে ফ্রান্স কম্বোডিয়ার একটি মানচিত্রে এলাকাটি কম্বোডিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে দেখালে থাইল্যান্ড তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫৩ সালে কম্বোডিয়ার স্বাধীনতার পরও বিতর্কের সমাধান হয়নি, বরং সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনপূর্ণ হয়।

দীর্ঘ সংঘাতের পর প্রায় ১৫ বছর আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। তবে গত বছরের মে মাস থেকে উত্তেজনা আবারও বাড়তে থাকে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত এবং তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

চার মাস শান্ত থাকার পর গত রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পর থাইল্যান্ডের সি সা কেত প্রদেশের সীমান্তে নতুন করে গোলাগুলি শুরু হয়। এর আগে সেদিনই থাইল্যান্ড জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়—কম্বোডিয়া গোপনে বৃহৎ এলাকা জুড়ে ল্যান্ডমাইন পেতে রেখেছে, যার বিস্ফোরণে থাই ও চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। জাতিসংঘকে তদন্তেরও আহ্বান জানায় থাই সরকার।

অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে কম্বোডীয় বাহিনী সি সা কেত সীমান্তে গুলি চালায়, এতে দুই থাই সেনা আহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার ভেতরে বিমান অভিযান চালায় এবং এরপর থেকেই পূর্ণমাত্রায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন