রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার বাস্তুভিটায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে অব্যবহৃত কয়েকটি ভবন। সেখানেই রয়েছে সেই ঐতিহাসিক ‘আঁতুড়ঘর’, যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন নারী জাগরণের পথিকৃত, সমাজসংস্কারক ও সাহিত্যিক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। আজ ৯ ডিসেম্বর, তার জন্ম ও মৃত্যু দিবস। দীর্ঘদিন ধরেই পায়রাবন্দের উন্নয়ন দাবি করে আসছেন স্থানীয়রা, কিন্তু স্মৃতিকেন্দ্রসহ বেশিরভাগ অবকাঠামো আজও পরিত্যক্ত ও অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
বেগম রোকেয়ার স্বপ্নের নারী সমাজ আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও নিরাপত্তা, অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে পিছিয়ে আছে—মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও নারী নেত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘আমিই রোকেয়া’ শিরোনামে পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস–২০২৫। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। এ বছর নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বেগম রোকেয়া পদক পাচ্ছেন চারজন নারী—ড. রুভানা রাকিব, কল্পনা আক্তার, ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং রিতু পর্ণা চাকমা।
এদিকে পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ ও ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হলেও সবচেয়ে বড় প্রকল্প বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২৪ বছরেও চালু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোষিত শিক্ষা–সংস্কৃতি কেন্দ্রটি আজ ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। পায়রাবন্দ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, শুধু অবকাঠামো দিয়ে স্মৃতির মর্যাদা রক্ষা হয় না—কেন্দ্র চালু না হওয়া লজ্জাজনক। স্মৃতিকেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবিদ করীম মুন্না ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ জানান, কার্যক্রম চালুর বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি।
বেগম রোকেয়ার পরিবার দাবি করছে, তাদের ৫১ একর ৪৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। তার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে রনজিনা সাবের অভিযোগ করেন, রোকেয়ার আঁতুড়ঘরের ৩০ শতাংশ জমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাইনবোর্ড টানিয়ে দখল করে রেখেছে। জমি অধিগ্রহণ না করলে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও স্বজনদের চাকরির ক্ষেত্রেও বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছেন রনজিনা।
বাংলা সাহিত্যে ও নারীমুক্তিতে অনন্য অবদান রাখা বেগম রোকেয়া শুধু সুলতানার স্বপ্ন, অবরোধবাসিনী ও পদ্মরাগ–এর মতো কালজয়ী রচনা উপহারই দেননি, নারী শিক্ষার প্রসারে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার জন্মভূমি আজও উন্নয়ন ও সংরক্ষণের অপেক্ষায়।




