ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসনাতের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আজ ট্রাইব্যুনালে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাক্ষ্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে তিনি সাক্ষ্য দেবেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন জানায়, সকাল ১০টার পর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছাতে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এই মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেফতার আছেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

এর আগে ২৭ নভেম্বর টানা ১৮তম দিনের শুনানিতে ২১ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ২৩ নভেম্বর এক শিক্ষার্থী জবানবন্দি দিয়ে জানান, তিনিই আহত আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং মৃত ঘোষণা করার পর পুলিশের সদস্যরা লাশটি ছিনিয়ে নেয়।

এরপর তাকে জেরা করেন পলাতক ২৪ আসামির স্টেট ডিফেন্স এবং গ্রেফতার আসামিদের আইনজীবীরা। এর আগে ১৮ নভেম্বর শিক্ষার্থী শান-এ রওনক বসুনিয়া, ১৬ নভেম্বর মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিক ও ১৩ নভেম্বর নায়েক আবু বকর সিদ্দিক সাক্ষ্য দেন।

১২ নভেম্বর সাক্ষ্য দিতে এসে এসআই (সশস্ত্র) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি মো. আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে চালানো গুলিতেই নিহত হন আবু সাঈদ। আরও আগের দিনে—১১, ১০, ৪ ও ২১ অক্টোবর এবং ১৩ অক্টোবর—সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকায় একাধিকবার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়।

৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে পুলিশের দুই উপপরিদর্শক এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল জবানবন্দি দেন। এরও আগে ২৮ আগস্ট আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়, একই দিন সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন।

চলতি বছরের ২৭ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের উপস্থাপিত সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেয়। এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ৩০ জুলাই রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন।

৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয়। মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন