ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসিনার নির্দেশে গুম, বাস্তবায়নে ছিলো তারিক সিদ্দিক

চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে গুমের ঘটনার নির্দেশ সরাসরি দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই গুম অপারেশন বাস্তবায়নের দায়িত্ব তখনকার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক পালন করতেন।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) আয়োজিত গুম ও নির্যাতনের মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সাথে ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

তাজুল ইসলাম জানান, গুম অপারেশনের দায়িত্ব লে. কর্নেল (অব.) মখছুরুর হক পালন করতেন এবং অবসরে গিয়ে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২টায় চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরু করার আবেদন জানান, যার মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিক, পলাতক ডিজিএফআইয়ের সাবেক চার মহাপরিচালক এবং গ্রেফতার তিন সেনা সদস্যসহ মোট ১৩ জন।

শুনানিতে গ্রেফতার সেনা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে ছিলেন শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) হামিদুল হক, লে. জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ এবং লে. কর্নেল (অব) মখসুরুল হক।

এ মামলার পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিযুক্ত করা হয়েছে। আদালত তাদের হাজির করার জন্য সাতদিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ দাখিল করার পর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন