দেশের সংকট মোকাবিলা ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের প্রতিটি ধাপে স্কাউটদের দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও সাহসিকতা নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া ১১ স্কাউটের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সততা, নৈতিকতা ও দেশগড়ার চেতনায় এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
ড. আবরার বলেন, স্কাউটিংয়ের লক্ষ্য শুধু ব্যাজ অর্জন নয়; বরং এটি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ, দায়িত্ববোধ ও দলগত কাজের প্রশিক্ষণ। যেকোনো দুর্যোগে স্কাউট সদস্যরা প্রথম সারিতে থেকে মানুষকে সহায়তা করে—ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা অগ্নিকাণ্ড—সব জায়গাতেই তাদের উপস্থিতি অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, আত্মনির্ভরশীল ও সেবামুখী নাগরিক গঠনে স্কাউটিংয়ের বিস্তার আরও বাড়াতে হবে।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ১১ স্কাউট সদস্যের ত্যাগ স্মরণ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, তাদের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের শক্তি ও অনুপ্রেরণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের ১৭৬টি স্কাউট দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এছাড়া এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন কমিটি ও সাবকমিটিতে বাংলাদেশি স্কাউটদের নেতৃত্ব দেশের সক্ষমতার স্বীকৃতি বহন করে।
নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। সততা, সাহস, দৃঢ়তা ও মানবিকতার মূল্যবোধ নিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলার স্কাউট সদস্যদের মধ্যে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড, প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড এবং প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়, যা স্কাউট কার্যক্রমে তাদের কৃতিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।




