২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ (শুক্রবার) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টারে। ড্রয়ের মধ্য দিয়ে একে একে নির্ধারিত হবে কোন দল কোন গ্রুপে পড়বে এবং কোন গ্রুপটি হতে যাচ্ছে আসরের আলোচিত ‘গ্রুপ অব ডেথ’। প্রতি বিশ্বকাপেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকে শক্তিশালী দলসমূহ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিশেষ গ্রুপ, যেখানে নকআউট পর্বে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হয় একাধিক ফেভারিট দলকে। র্যাংকিংয়ে কাছাকাছি থাকা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পাশাপাশি পড়লেই তৈরি হয় সেই মৃত্যুকূপ।
এবারের বিশ্বকাপে বিশেষ নজর থাকছে পট–৪ নিয়ে। ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে আসা দলগুলো—যাদের মধ্যে থাকতে পারে ইতালি (র্যাংকিং ১২), ডেনমার্ক (২১) বা তুরস্ক (২৫)—এদের সবাইকে রাখা হয়েছে পট–৪-এ। ফলে যেসব দল তাদের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়বে, তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
পটভিত্তিক শক্তিশালী ও তুলনামূলক সহজ দলগুলো
পট–১-এ স্পেন, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে ধরা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে। ব্রাজিল, বেলজিয়াম বা আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত।
পট–২-এ কড়া প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া ও উরুগুয়ে; আর ইরান, অস্ট্রিয়া ও সেনেগাল অপেক্ষাকৃত সহজ।
পট–৩-এ নরওয়ে, মিশর ও আলজেরিয়া কঠিন দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পট–৪-এ সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হলো ইউরোপীয় প্লে-অফ বিজয়ীরা এবং ঘানা।
বিশ্লেষকরা ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য চারটি ‘গ্রুপ অব ডেথ’ নিয়ে সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। একটি গ্রুপে স্পেন, কলম্বিয়া, মিশর ও ইতালি পড়লে তা হবে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ভয়ংকর গ্রুপ। আরেকটিতে ইংল্যান্ড, উরুগুয়ে, আইভরি কোস্ট ও ইউরোপীয় প্লে-অফ দল থাকলে সেটিও সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ইউরোপীয় প্লে-অফ দল না থাকলেও আর্জেন্টিনা, ক্রোয়েশিয়া, নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের সমন্বয়ে আরেকটি মৃত্যুগ্রুপ তৈরি হতে পারে। এছাড়া ফ্রান্স, উরুগুয়ে, আলজেরিয়া ও সৌদি আরবের গ্রুপকেও ‘ডেথ গ্রুপ’-এর তালিকায় রাখা হচ্ছে।
এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপে এখনও ছয়টি জায়গা খালি রয়েছে—চারটি আসবে উয়েফা প্লে-অফ থেকে এবং বাকি দুটি আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের মাধ্যমে। ইউরোপের আলবেনিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, তুরস্কসহ ১৬ দল লড়বে চারটি আসনের জন্য। বাকি দুটি স্লটের জন্য লড়বে ইরাক, বলিভিয়া, কঙ্গো ডিআর ও জ্যামাইকার মতো দল।
পট–১ থেকে শুরু হবে ড্র
যৌথ আয়োজক হওয়ায় কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র আগেই পট–১ এবং নিজেদের গ্রুপ নিশ্চিত করেছে। বাকি দলগুলো ফিফা র্যাংকিং অনুযায়ী বণ্টন করা হয়েছে চার পটে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—টুর্নামেন্টের চার শীর্ষ র্যাংকিংধারী দল (স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড)কে ভিন্ন ভিন্ন পথে রাখা হবে যাতে সেমিফাইনালের আগে তারা মুখোমুখি না হয়।
এশিয়া, আফ্রিকা, কনমেবল, কনক্যাকাফসহ সব ফেডারেশনের দল অংশ নিলেও একই কনফেডারেশনের দুই দলের একই গ্রুপে পড়ার সুযোগ নেই, ব্যতিক্রম শুধুমাত্র উয়েফা। ইউরোপ থেকে ১৬ দল অংশ নেওয়ায় অন্তত চারটি গ্রুপে দুটি করে ইউরোপীয় দল থাকবে।
ফিফা জানিয়েছে, নাম লেখা কাগজ বলের ভেতরে রেখে এলোমেলোভাবে পট–১ থেকে পট–৪ পর্যন্ত ড্র করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতাপূর্ণ গ্রুপগুলো—কারা পড়বে সহজ গ্রুপে, আর কারা পড়বে মৃত্যুকূপে।




