ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দোকানদার হতবাক, মাত্র এক লাইটে লাখ টাকার বিল

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের লিটুখান বাজারে দুই নিম্নআয়ের দোকানদারের হাতে অস্বাভাবিকভাবে অত্যন্ত বড় ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল পৌঁছেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। চা–পান বিক্রি করা বাদশা ব্যাপারীর দোকানে মাত্র একটি ফ্যান এবং একটি বাতি থাকা সত্ত্বেও নভেম্বর মাসের জন্য তার হাতে ধরানো হয়েছে ৫৫,৫৫০ টাকার বিল।

সাধারণত তার মাসিক বিদ্যুৎ বিল দুই–তিনশো টাকা মাত্র আসে। এই অস্বাভাবিক বিল পেয়ে তিনি হতবাক হয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অফিসে ফোন করলে শুধু গিয়ে দেখতে বলে। এভাবে আমার দোকান চালানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।”

একই বাজারের খাবারের দোকানি শহীদ খানও পেয়েছেন অন্য একটি অস্বাভাবিক বিল — ২৪,২১৬ টাকা। শহীদ জানিয়েছেন, তার দোকানে ব্যবহার হয় দুটি লাইট, একটি ফ্যান এবং একটি ছোট ফ্রিজ। তিনি বলেন, “বিল হাতে নিয়ে মাথা ঘুরে গেছে। এইভাবে চললে দোকান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা শুধু গ্রাহকদের জন্য কাজ করি, কিন্তু বিদ্যুৎ বিলের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আমাদের জীবনযাত্রার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস ধরে লিটুখান বাজারে এ ধরনের ভুল বা ভুতুড়ে বিল আসছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে, মিটার রিডিং নেওয়া বা বিল প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত করা হোক এবং সঠিক বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হোক, যাতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

বিল প্রস্তুতকারী কর্মী সুমি রানী দাস জানিয়েছেন, “গ্রাহকরা অফিসে আসলে আমরা পুনর্বিবেচনা করে রিডিং যাচাই করব এবং প্রয়োজন হলে বিল সংশোধন করা হবে।” টংগিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসার (ডিজিএম) মো. আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, “এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি হতে পারে। অভিযোগ পেলে আমরা সরেজমিন যাচাই করব এবং দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করব। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অবহেলা নয়, এটি সম্ভবত যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক কারণে ঘটেছে।”

স্থানীয়রা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের ভুল ও ত্রুটি দ্রুত সমাধান না হলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ছোট ও নিম্নআয়ের দোকানদারদের জন্য এটি গুরুতর সমস্যা। তাদের মতে, বিদ্যুৎ বিভাগের এই ধরনের অস্বাভাবিক বিলের কারণে সাধারণ মানুষও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এ ধরনের ‘ভুতুড়ে’ বিলের ঘটনা শুধু লিটুখান বাজারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি রোধ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন