রাশিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে এক পদার্থবিজ্ঞানীকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মস্কোর একটি আদালত পদার্থবিদ আরতিওম খোরোশিলভকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সর্বোচ্চ ২১ বছরের সাজা দিয়েছেন, রাশিয়ার গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী।
৩৪ বছর বয়সি খোরোশিলভকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ ছিল—
ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ডিডোস সাইবার হামলায় জড়িত থাকা,
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অর্থ পাঠানো, এবং
রাশিয়ান সেনাবাহিনী সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা।
মিডিয়াজোনা জানায়, খোরোশিলভ অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করেছেন, তবে ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়ার ডাক বিভাগের সার্ভারে ডিডোস হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত সপ্তাহে আদালতে দেওয়া সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ আমার ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য, কারণ আমার পরিবারের অনেক সদস্য ইউক্রেনে বসবাস করেন।”
বৃহস্পতিবার আদালত খোরোশিলভকে রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য রাখাসহ নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। রাষ্ট্রপক্ষ তার জন্য ২৫ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল।
রাশিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির মামলা সাধারণত ক্লোজড ডোরে পরিচালিত হয়। খোরোশিলভ মস্কো ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতক এবং রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর সাধারণ পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটে গবেষক হিসেবে কাজ করছিলেন।
কিরিল পারুবেতস অ্যানালিটিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার রাশিয়ান আক্রমণের পর রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের ২২৪টি রায় দেওয়া হয়েছে এবং ২৩২ জন অভিযুক্ত হয়েছেন, যা আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।




