ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

করবাড়িতে পাখির উৎসব, ঝাঁকে ঝাঁকে আগমন

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাণীবহ ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের করদের বাগান বাড়িতে শতশত পাখির সমাবেশে দিনদিন দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব পাখি বাগানের উঁচু মগডালে বাসা বেঁধেছে। জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বিল ও কৃষিজমিতে ঘেরা সবুজ এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখে পড়ে। করবাড়িতে তিনটি পরিবার একসঙ্গে বসবাস করে। বিত্তের বৈভব না থাকলেও তাদের বৃক্ষপ্রেম চারপাশে স্পষ্ট। বাড়ির মালিক উত্তম কর জানান, তিন শরিকের বাড়ির চারপাশে প্রায় পঁয়ত্রিশ বিঘা জমি রয়েছে, যার মধ্যে পুকুর, বাগান, মেহগনি ও শিশু গাছ রয়েছে। এসব উঁচু গাছেই পাখিরা বাসা বেঁধেছে।

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পাখির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। লম্বা গলা সাদা শামুকখোল, সারস, মেছো বক, বেলেহাঁস ও বিভিন্ন প্রজাতির বাদুড় দেখা যাচ্ছে এসব গাছে। সন্ধ্যা নামলে পুরো বাগান সাদা পাখির ডানায় মুখর হয়ে ওঠে। তাদের ডাক ও ওড়াউড়িতে এক নৈসর্গিক দৃশ্য তৈরি হয়। তবে পাখির ডিমের খোসা ও বিষ্ঠায় বাগানে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান পরিবারের মেয়ে মৌসুমী কর। প্রথম দিকে কিছু শিকারি পাখি শিকার করলেও স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে এখন আর কেউ আসে না।

ইতোমধ্যে বন বিভাগ ও পশুসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারাও পাখি রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। ফলে এলাকা এখন ‘করবাড়ির পাখির অভয়াশ্রম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ, বিশেষত বিকেলে, দল বেঁধে পাখি দেখতে আসে। তবে ছবি তুলতে গিয়ে অনেকেই ড্রোন ব্যবহার করছে, এতে পাখির ঝাঁক একস্থান থেকে আরেক স্থানে সরে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড্রোনের শব্দ ও উপস্থিতিতে পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে এলাকা ছাড়তে পারে।

এদিকে কিছু পাখি ইতোমধ্যেই স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধেছে এবং ডিমও দিয়েছে। এসব ডিমের আকার হাঁসের ডিমের মতো। বাড়ির মালিক উত্তম কর বলেন, পাখির বিষ্ঠার কারণে তাদের পুকুরের মাছ মরছে এবং গাছের পাতা ফ্যাকাসে হয়ে ঝরে পড়ছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলেও তারা পাখি সংরক্ষণে যথেষ্ট আন্তরিক।

দেশের খ্যাতনামা পাখিবিদ আল্লামা শিবলী সাদিক জানান, এগুলো অধিকাংশই পরিযায়ী পাখি, যারা কাছাকাছি বড় জলাশয় থেকে আসে এবং বংশবিস্তার করার জন্য এমন বাগানকে নিরাপদ মনে করে। মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এরা ডিম দেয় ও বাচ্চা ফোটায়। বাচ্চাদের শামুক খেতে বিল-হাওর এলাকায় নিয়ে যায়, আর মা পাখিরা সাপ ও ব্যাঙ খেয়ে থাকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ড্রোন ব্যবহারে পাখিদের ভয় সৃষ্টি হয় এবং এতে তারা ভবিষ্যতে এ এলাকা ত্যাগ করতে পারে। পাশাপাশি পাখি সংরক্ষণ আইনে ড্রোন ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ—এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন