ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনসহ আলাদা কারাগার স্থাপনের উদ্যোগ

দেশজুড়ে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাদক মামলার আসামিদের জন্য প্রতিটি বিভাগে পৃথক কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এসব কারাগারে শুধু মাদক মামলার বন্দিদের রাখা হবে এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও নিরাময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে ফেনীতে পরীক্ষামূলকভাবে একটি বিশেষ কারাগার চালু হয়েছে, যেখানে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন কারাগার থেকে মাদক মামলার বন্দিদের আনা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আলাদা একটি নীতিমালা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হলে সাত বিভাগে পৃথক কারাগার স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। এ ছাড়া গত ২৪ জুন একনেক অনুমোদন দিয়েছে সাত বিভাগীয় শহরে ১,৪০০ কোটি টাকায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পকে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাদকের বিস্তার দেশের উন্নয়নে বড় বাধা—এটি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, ফেনীতে মাদক মামলার বন্দিদের আলাদা রাখার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সেখানে মাদকাসক্তদের নিরাময় কার্যক্রম চলমান। সফলতা পেলে অন্যান্য কারাগারেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাদক অধিশাখা) এ এফ এম এহতেশামুল হক বলেন, মাদক নির্মূলে নতুন নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মাদকাসক্ত বন্দিদের আলাদা রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন।

কারা সূত্র জানায়, দেশের ৬৮ কারাগারে বর্তমানে ৭৮ হাজার বন্দি রয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজারই মাদক মামলার আসামি। এদের মধ্যে অনেকেই মাদকাসক্ত হওয়ায় কারাগারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে তাদের রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে পৃথক কারাগার ও নিরাময়কেন্দ্র প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

ফেনীর পুরনো কারাগারটি সংস্কারের পর ‘ফেনী-২ কারাগার’ নামে ১ নভেম্বর থেকে চালু হয়েছে, যার ধারণক্ষমতা ১৭২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন কারাগার থেকে মাদক মামলার আসামিদের সেখানে আনা হচ্ছে। ফেনীর পর কিশোরগঞ্জ-২ কারাগারেও একই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশে নতুন সিনথেটিক ও সেমিসিনথেটিক মাদকের প্রবাহ বাড়ায় মাদকাসক্তির হার বেড়েছে এবং এর সঙ্গে বাড়ছে অপরাধও। অনেক মাদকাসক্ত গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর জামিন পেয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাই বিশেষায়িত কারাগার এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন