ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পেপ্যাল আসছে বাংলাদেশে: জানুন ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা

অনলাইনে কেনাকাটা, বিল পরিশোধ ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের সহজতম মাধ্যমগুলোর একটি পেপ্যাল। ইলন মাস্কসহ কয়েকজন উদ্যোক্তা এ প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব ধরে রাখলেও বাংলাদেশে সেবাটি চালু ছিল না। ফলে দেশের অনেক ব্যবহারকারী এখনো পেপ্যাল কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা জানেন না। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার বাংলাদেশে পেপ্যাল কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল বাংলাদেশে সেবা চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

গভর্নর বলেন, ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকদের জন্য এলসি খোলার জটিলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। পেপ্যাল চালু হলে ইউরোপ-আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ছোট চালানে পণ্য পাঠানো সহজ হবে এবং রপ্তানি আয়ের অর্থ দ্রুত দেশে আনা সম্ভব হবে। বিশেষত ফ্রিল্যান্সারদের পারিশ্রমিক গ্রহণে যে ভোগান্তি ছিল, তাও বহুলাংশে কমে আসবে।

তার ভাষায়, পেপ্যাল এক বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা, যার মাধ্যমে নিরাপদে অনলাইনে অর্থ পাঠানো, গ্রহণ ও বিল পরিশোধ করা যায়। ২০০টির বেশি দেশে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য রয়েছে বিশেষ সুরক্ষা সুবিধা।

পেপ্যাল কী?

বিশ্বজুড়ে পেপ্যালের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৩৬০ মিলিয়নের বেশি। শুধু ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ৪ বিলিয়নের মতো লেনদেন পরিচালনা করেছে। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই অনলাইন পেমেন্টকে সহজ ও নিরাপদ করে তোলে প্রতিষ্ঠানটি। ক্রেডিট কার্ড কিংবা চেক ওয়্যার ট্রান্সফারের ঝামেলাকে অনেকটাই কমিয়ে এনেছে পেপ্যাল।

ব্যবহারকারী যে কেউ বিনামূল্যে একটি পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড যুক্ত করতে পারেন। এরপর খুব সহজেই অনলাইনে কেনাকাটা, টাকা পাঠানো বা গ্রহণের কাজ করা যায়।

পেপ্যাল ক্রেডিট কী?

পেপ্যাল ক্রেডিট হলো একটি ওপেন এন্ড ভার্চুয়াল ক্রেডিট সেবা। এটি কোনো বাস্তব কার্ড নয়, তবে যেসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পেপ্যাল গ্রহণ করা হয় সেগুলোতে পেপ্যাল ক্রেডিট দিয়েও পেমেন্ট করা যায়। ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ফি প্রযোজ্য।

পেপ্যাল ক্যাশ

২০১৯ সালে চালু হওয়া ‘পেপ্যাল ক্যাশ’ হলো পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে জমা থাকা সব অর্থের সমষ্টি। ব্যবহারকারীরা চাইলে এ অর্থ ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে পারেন বা সরাসরি পেপ্যাল ক্যাশ থেকেই পরিবার–বন্ধুকে পাঠাতে পারেন। গুগল পে ও স্যামসাং পের মতো পেমেন্ট সেবাতেও এটি ব্যবহারযোগ্য।

পেপ্যাল কীভাবে কাজ করে

যেসব ব্যক্তি বা ব্যবসা অনলাইনে অর্থ আদান প্রদান করতে চান, তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে পেপ্যাল। ব্যক্তিগত লেনদেনে কোনো চার্জ নেই। তবে বাণিজ্যিক লেনদেনে নির্দিষ্ট সেবা ফি যুক্ত হয়। ব্যবসার জন্য আলাদা ‘পেপ্যাল বিজনেস অ্যাকাউন্ট’ও খোলা যায়।

বাংলাদেশে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলা যায় কি?

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে অফিসিয়ালি পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই এ সুবিধা চালু হতে পারে। অবৈধভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা ঝুঁকিপূর্ণ এতে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে পারে এবং অর্থ হারানোর আশঙ্কা থাকে।

পেপ্যালের সুবিধা

১. সুরক্ষা: প্রতিটি লেনদেনে শক্তিশালী এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়। ক্রেতাদের জন্য রয়েছে পারচেজ প্রটেকশন ও রিফান্ড সুবিধা।
২. বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা: ২০৩টি দেশে ব্যবহারযোগ্য এবং কারেন্সি কনভার্ট না করেই পেমেন্ট করা যায়।
৩. দ্রুততা: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর টাইপ করার ঝামেলা নেই। স্মার্টফোন থেকেই মুহূর্তে লেনদেন করা যায়।
৪. রিওয়ার্ড: বিভিন্ন লেনদেনে রিওয়ার্ড বা ক্যাশব্যাক সুবিধা পাওয়া যায়।

অসম্পূর্ণতা বা সীমাবদ্ধতা

১. লেনদেন ফি: ব্যক্তিগত লেনদেনে চার্জ না থাকলেও ব্যবসায়িক লেনদেনে নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য।
২. ইনস্ট্যান্ট ব্যাংক ট্রান্সফার: দ্রুত ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ শতাংশ চার্জ ধার্য করা হয়। ব্যাংকে বিনামূল্যে ট্রান্সফার করলেও ২-৩ দিন সময় লাগে।

সংবাদটি শেয়ার করুন