বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাঁকচাপ লক্ষ্য করা গেছে। সাম্প্রতিক তদন্তে শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে বছরের পর বছর বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শুধু চাকরির সুযোগ নষ্ট করা নয়, বরং এতে সরকারি বরাদ্দ, ভ্যাট ও অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও শত কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোট ১,১৭২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন সম্পূর্ণ ভুয়া সনদ, আর আরও প্রায় ৩০০ জনের সনদ অগ্রহণযোগ্য। সংস্থাটি প্রথম ধাপে ৪০০ জনের একটি তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিআইএ বিভিন্ন অনিয়ম যেমন ভুয়া নিয়োগ, ভ্যাট ও আইটির অসঙ্গতি, আর্থিক কারচুপি মিলিয়ে ২৫৩ কোটি টাকা ফেরতের সুপারিশ করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অদৃশ্যভাবে চলতে থাকা এই অনিয়ম বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা জাল সনদধারীদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হবে।”
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অঞ্চলভিত্তিক উদ্বেগজনক তথ্য। সবচেয়ে বেশি জাল সনদ পাওয়া গেছে রাজশাহী বিভাগে; ৭৭৯ জন। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে ১২০ জন, ঢাকা বিভাগে ৭০ জন, খুলনা বিভাগে ১৭৯ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ জাল বলে নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নিয়মিত পরীক্ষা নিয়ে মেধাতালিকা তৈরি করলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভুয়া সনদ, জাল সুপারিশপত্র ও নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ ক্রমেই বেড়ে চলছে। ডিআইএ’র সর্বশেষ অনুসন্ধান সেই উদ্বেগকেই আরও স্পষ্ট করেছে।




