ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুম-নির্যাতনের অভিযোগ গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত ১৪ ডিসেম্বর

র‌্যাবের টিএফআই সেলে রাজনৈতিক ভিন্নমতের মানুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এখন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৪ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের শুনানিতে টিএফআই সেলের ভয়াবহ গুম ও নির্মম নির্যাতনের বিবরণ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ১৬ বছরের অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

শুনানিতে তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য সাধারণত দুইভাবে নির্ধারিত হতো—কেউ গুমের পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হতো, আবার অনেককে সাত-আট বছর অদৃশ্যমান রেখে একসময় অজানা স্থানে ফেলে দেওয়া হতো। প্রসিকিউটর আরও বলেন, টিএফআই সেলে সংঘটিত নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহ ছিল।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, র‌্যাবের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে শুনানির সুযোগ দেওয়ার আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছেন। তার ভাষায়, আসামিপক্ষ সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই বিচারের বিরোধ তৈরি করার চেষ্টা করছে, যা আদালত গুরুত্বসহকারে লক্ষ্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন এই বিচার কোনোভাবেই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। কারণ আসামিরা অপরাধের সময় সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে নয়, র‌্যাবের দায়িত্ব পালনকালেই এসব মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। তাই তাদের ‘বিশেষ সুবিধা’র আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

তাজুল ইসলাম জানান, আদালত ন্যায়ের নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সব নাগরিক আইনের চোখে সমান। অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়ায় আসামিরা বিচারাধীন থাকাকালে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন ঠিকই, তবে অন্য আসামিদের মতোই একই ধরনের সুবিধা পাবেন, এর বাইরে অতিরিক্ত কিছু নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন