ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করতে হবে’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, আমরা প্রায়শই জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলি, তবে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, আমদানি ও রপ্তানিতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ডব্লিউটিও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) হোটেল ওয়েস্টিনে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘ফ্লেমিং ফান্ড লেগাসি ইন বাংলাদেশ: ট্যাকলিং এএমআর থ্রু ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বিশেষ করে এসডিজি-২ বা ক্ষুধা দূরীকরণ, শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। খাদ্য উৎপাদন ও প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিক ও পেস্টিসাইডের সঠিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

ফরিদা আখতার আরও বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের ফ্লেমিং ফান্ড ২০২০ সাল থেকে ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশে এএমআর নজরদারি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। এই উদ্যোগের ফলে কৃষক, ভেটেরিনারিয়ান এবং মাঠ কর্মকর্তাদের সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও দায়িত্বশীল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারে সহায়ক।

তিনি উপসংহারে বলেন, মানব স্বাস্থ্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি—সব ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ফ্লেমিং ফান্ড সিবিজিবির টিম লিড প্রফেসর শাহ মনির হোসেন সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন ঢাকার ব্রিটিশ হাই কমিশনের উপ-হাই কমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. আবু জাফর, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। বিভিন্ন গবেষক, বিজ্ঞানী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন