ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫ এর চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারিতে দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই নতুন মাত্রা পায়। দিনের শুরুতে তারা ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হন এবং ধাপে ধাপে সংগঠিত হয়ে মিরপুর সড়কের দিকে অগ্রসর হন। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের সামনের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে অবস্থান নিয়ে অবরোধ গড়ে তোলেন, ফলে পুরো এলাকায় যান চলাচল একেবারে স্থবির হয়ে পড়ে।
সড়ক অবরোধের কারণে নিউমার্কেট, আজিমপুর, ধানমন্ডি ও সায়েন্সল্যাব অঞ্চলে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে। অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী গাড়ি থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেকেই পথ বদলে বিকল্প রুটে যেতে বাধ্য হলেও সেখানেও যানজটের চাপ বাড়তে থাকে।
এদিন সকাল ১০টার পর থেকেই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নানান স্লোগান দিতে দিতে মিছিল শুরু করেন। ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল শুরু হয়ে আজিমপুর মোড় ঘুরে আবার কলেজের সামনের সড়কে এসে তারা অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো পর্যন্ত অধ্যাদেশ জারি নিয়ে কোনো দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এভাবে অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা জানান, পরিচয় সংকট, প্রশাসনিক কাঠামো, একাডেমিক কার্যক্রম, সেশন স্থিতিশীলতা—সবকিছুই অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত ঝুলে আছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে তারা বিপাকে পড়ছেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা আলোচনা করেছি, অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। বাধ্য হয়েই আজ সড়ক অবরোধে নামতে হয়েছে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।
শিক্ষার্থী আরও জানান, তারা পরীক্ষার সময়সূচি, ক্লাস পরিচালনা এবং সার্বিক প্রশাসনিক নির্দেশনা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চান। কারণ প্রতিটি সেশনে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।




