ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইনগত ভিত্তি ছাড়া তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাজারে ভোজ্যতেলের দাম হঠাৎ করে লিটারপ্রতি ৯ টাকা বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ীরা, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

ব্যবসায়ীদের এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে সরকারের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ হয়নি। তিনি বলেন, “তারা আমাদের কোনোভাবে অবহিত করেনি। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসেছি, সেখানেই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।” তার মতে, সব প্রতিষ্ঠান মিলেই একযোগে দাম বাড়িয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

সরকার এখন কী পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা জানান, আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “তাদের এই কার্যক্রমের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।”

শেখ বশিরউদ্দীন আরও জানান, ঠিক আগের দিনই ক্রয় কমিটি ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১ কোটি লিটার রাইস ব্র্যান তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে। তার মতে, দরপত্রের মাধ্যমে কম দামে তেল কেনা সম্ভব হলে বাজারে অতিরিক্ত মূল্য দাবি করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কতটা রয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ আছে কি নেই তা সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ দেখলেই বোঝা যাবে। তার ভাষায়, “নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই আছে।”

মন্ত্রণালয়কে উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীরা কীভাবে দাম বাড়াল—এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ওটা ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞেস করাই ভালো। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আগেও তারা দাম বাড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা সম্মতি না দেওয়ায় পারেনি। আইন ভঙ্গ হলে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এর আগে কোনো ঘোষণা ছাড়াই আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো নীরবে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। এক লাফে লিটারে ৯ টাকা মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ—এভাবে আগাম ঘোষণা ছাড়া কৌশলে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন