ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হল কেন্দ্রিক নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতি চায় শিবির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে আমাদের কোনো রাজনৈতিক কমিটি নেই। শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে, তাদের মতামত নিয়েই আমরা কিছু সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করি।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি শিবিরের সভাপতি এ কথা বলেন।

ফরহাদ বলেন, শিবির হলভিত্তিক রাজনীতি নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক ছাত্ররাজনীতিতে বিশ্বাসী। বর্তমানে আমরা আবাসিক হলে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছি না। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, এসব কার্যক্রমের মধ্যে ছিল তীব্র গরমে হলে হলে পানির ফিল্টার সরবরাহ, স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন পরিচালনা, নববর্ষ উপলক্ষে উপহার বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ। এ কাজগুলো সম্পন্ন করতে কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে, যা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে একটি মহল প্রচার চালাচ্ছে।

ফরহাদ বলেন, কিছু পক্ষ এমনভাবে প্রচার করছে যেন হলে হলে শিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। বাস্তবে, সেবামূলক কার্যক্রমের সুবিধার্থে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা যদি এসব সেবা না চান, তাহলে আমরা তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেব।

ঢাবিতে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর হলভিত্তিক কমিটি নিয়ে আগে কোনো আপত্তি ওঠেনি, অথচ বর্তমানে অন্য দলের কমিটি নিয়ে বিরোধিতা করা হচ্ছে–এমন প্রশ্ন তুলে ফরহাদ বলেন, ‘শিবির দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, হলে রাজনীতি না হোক। আমরা চাই, হলের বাইরে শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় রাজনীতি করুক। অথচ বাম সংগঠনগুলো হলে কমিটি গঠন করলেও কেউ প্রশ্ন তোলে না, এখন কেন?’

এদিকে গতকাল মাস্টারদা সূর্য সেন হলে ছাত্রশিবিরের স্থাপন করা পানির ফিল্টার ভাঙচুর করেছে একদল শিক্ষার্থী। এছাড়া, রোকেয়া হলে দেওয়া শিবিরের ফিল্টার, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভেন্ডিং মেশিন ও ছাত্রদলের দেওয়া ডাস্টবিনও বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন হলটির শিক্ষার্থীরা।

পানির ফিল্টার স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি হলে শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে এবং হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা পানির ফিল্টারগুলো স্থাপন করেছিলাম। শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে সংগঠনের এলামনাইদের কাছ থেকে ফান্ড কালেক্ট করে আমরা তা উপহার হিসেবে দিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা যদি এখন সেগুলো ব্যবহার করতে আপত্তি জানায়- তাহলে আমরা সেগুলো সরিয়ে নেব।

শিবির সম্পর্কে উমামা ফাতেমার দেওয়া বক্তৃব্যকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ছাত্রশিবির তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা অনুযায়ী চলবে। কারও বিকৃত বা মনগড়া মতামতের ভিত্তিতে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

তিনি বলেন, শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটকে ধারণ করে রাজনীতি করে, শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করে। শিবির তার সংবিধানে যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার বাইরে গিয়ে রাজনীতি করবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন