মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মিন্ত সোয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী নেপিদোর একটি সামরিক হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। খবর বার্তা সংস্থা এপির।
চার বছরের বেশি সময় আগে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর বিতর্কিত পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মিন্ত সোয়ে।
অসুস্থ্য হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দেওয়ার এক বছর পর তার মৃত্যু হলো।
রাষ্ট্রীয়ভাবে তার শেষকৃত্য হবে। তবে শেষকৃত্যের তারিখ জানায়নি জান্তা সরকার।
এরআগে মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তার অবস্থা গুরুতর। ২৪ জুলাই থেকে নেপিদোর একটি সামরিক হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাধীন ছিলেন তিনি।
গত বছরের জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ঘোষণা করে, মিন্ত সোয়ে স্নায়বিক ব্যাধি এবং পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি রোগে ভুগছেন। যার ফলে তিনি খাওয়াসহ স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন না। এর কয়েকদিন পরে, তিনি সামরিক সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে চিকিৎসা ছুটিতে থাকাকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেন।
সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর, অং সান সু চির সাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিন্ত সোয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হন।
মিন্ত সোয়ে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আধা-বেসামরিক সরকারের অধীনে মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। পূর্ববর্তী সামরিক সরকারের অধীনে বছরের পর বছর ধরে আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময়, তিনি শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নেন।




