ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ড্রেনে পড়ে নারীর মৃত্যু: গাফিলতি খতিয়ে দেখতে রিট

গাজীপুরের টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ কর্মজীবি নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গাফিলতি খতিয়ে দেখতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে গাজীপুর মহানগরী বা সিটি করপোরেশনে কতগুলো স্যুয়ারেজ, ম্যানহোল, ড্রেন ও নলকূপ খোলা অবস্থায় আছে তার তালিকা দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অরক্ষিত ড্রেন এবং ম্যানহোলে পড়ে গেলে বা দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কী কী আধুনিক সরঞ্জামাদি আছে তার তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলফাজ, অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট রবি হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

এছাড়াও ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যুবরনকারী ফারিয়া তাসনিম জোতির পরিবারকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এই মর্মেও রুলে আবেদন জানানো হয়েছে রিটে।

রিটে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান, মনি ট্রেডিং কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর শালিকচূড়া বিল থেকে ফারিয়া তাসনিম ওরফে জ্যোতির (৩২) মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। ফারিয়া যে ড্রেনে পড়েগিয়েছিলেন, সেই ড্রেনের পানি শালিকচূড়া বিলে গিয়ে পড়ে। সকালে সেখানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার লাশটি পাওয়া যায়।

ফারিয়া তাসনিম চুয়াডাঙ্গার সদর থানার বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম উল্লাহ আহমেদের মেয়ে। তিনি টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ওষুধ বিপণনের কাজে কর্মরত ছিলেন। একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি চাকরি করতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি ড্রেনের অংশে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ঢাকনা ছিল না। ছিল না কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও।

গত ২৭ জুলাই রাতে হেঁটে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ফারিয়া তাসনিম ওই খোলা ড্রেনে পড়ে যান। পানির প্রবল স্রোতে তিনি নিখোঁজ হন। দুর্ঘটনার পরপরই গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন