রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনার পর কেটে গেছে প্রায় দুই সপ্তাহ। তবুও মাইলস্টোন কলেজে শোকের আবহ কাটেনি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে-মুখে এখনো ভয়-আতঙ্ক। গত রোববার সীমিত আকারে ক্যাম্পাস খুললেও পাঠদান হয়নি। চলেছে দোয়া মাহফিল ও শিক্ষার্থীদের মানসিক পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে কাউন্সেলিং কার্যক্রম। এরপরও ছেলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় ওইদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মেয়ে শিক্ষার্থীরাই বেশি ট্রমার মধ্যে রয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল আলম বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের শিক্ষার্থীদের মানসিক সাপোর্ট দেওয়া। আমরা চেষ্টা করছি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াতে।
তিনি জানান, ছাত্রীদের মধ্যে ট্রমার প্রভাব ছেলেদের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। মেয়েদের জন্য আলাদা মনোযোগ দিয়ে কাউন্সেলিং চালানো হচ্ছে।
অধ্যক্ষ বলেন, ট্রমার ভেতরেও ফিরতে হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রমে। আমাদের এখানে ব্র্যাক, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং কলেজের নিজস্ব সাইকোলজিস্টদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কাউন্সেলিং টিম কাজ করছে। শুরুতে ওয়ান-টু-ওয়ান সেশন হলেও এখন চলছে গ্রুপ কাউন্সেলিং। প্লে গ্রুপ থেকে শুরু করে ক্লাস ১২ পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। আমাদের প্রায় প্রতিটি সেকশনে ২০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকে। ফর্ম মাস্টারদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং সেশনে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহ থেকেই ট্রমাটাইজড শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ডেকে এনে সেশন করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে সবার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একটা সেশন যথেষ্ট না—অনেকের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সেশন দরকার।
জিয়াউল আলম বলেন, অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফেরানো হয়েছে। আমরা কাউকে জোর করিনি। ৯০ শতাংশ অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীর মতামত ছিল—তারা ক্যাম্পাসে ফিরতে চায়। তারা বিশ্বাস করে, একসাথে থাকলে ট্রমা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রথম দুইদিন ছিল দোয়া মাহফিল এবং মানসিক প্রশমন কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত। ক্লাস হয়নি। তবে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে তাদের মানসিক অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছেন।
কলেজ থেকে প্রতি মুহূর্তে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে গুজবের অবসান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে মৃত্যু ও নিখোঁজ সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গুজব ঠেকাতে আমরা বারবার যাচাই-বাছাই করেছি। অভিভাবকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী ২৭ জন শিক্ষার্থী, ২ জন শিক্ষক, ৩ জন অভিভাবক এবং ১ জন আয়াসহ দুর্ঘটনায় মোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (৬ আগস্ট) থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




