ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে বন্যায় শতাধিক শিশুসহ নিহত ২২১

পাকিস্তানে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২১-এ দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭৭ জন পুরুষ, ৪০ জন মহিলা এবং ১০৪ জন শিশু। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশ, মারা গেছেন ১৩৫ জন মানুষ। মঙ্গলবার (২২ ‍জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জিও নিউজ।

দেশটির দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা বলেছে, পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে মেঘ ভাঙনের ফলে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। আর এ কারণে হতাহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতজনিত দুর্ঘটনায় দুই পুরুষ এবং তিন শিশু নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতজনিত দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৯২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঞ্জাব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ, যেখানে ১৩৫ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৭০ জন।

প্রতিবেদন বলছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রদেশে প্রাণ গেছে ৪০ জনের এবং আহত হয়েছেন ৬৯ জন। সিন্ধুতে ২২ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বেলুচিস্তানে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, আর আজাদ কাশ্মীরে একজনের মৃত্যু এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া গিলগিট-বালতিস্তানে তিনজন আর ইসলামাবাদে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এনডিএমএ রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫টি বাড়ি ধসে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে, ৮০৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং ২০০টি গবাদি পশু হারিয়ে গেছে।

সম্পত্তির ক্ষতির দিক থেকে, পাঞ্জাবে ১৬৮টি ও কেপিতে ১৪২টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধসে পড়েছে ৭৮টি। এছাড়া সিন্ধুতে ৫৪টি আংশিক এবং ৩৩টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। বেলুচিস্তানে ৫৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে ৮টি বাড়ি।

গিলগিট-বালতিস্তানে ৭১টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬৬টি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আজাদ কাশ্মীরে ৭৫টি আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ১৭টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসলামাবাদে ৩৫টি বাড়ি আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং একটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন