ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেকসই লেনদেন ও বিনিয়োগে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি জরুরি: পরিবেশ উপদেষ্টা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, টেকসই বিনিয়োগ কোনো একক দেশের দায় নয়—এটি হতে হবে একটি বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নে ন্যায্যতা থাকতে হবে। যদি সম্পদনির্ভর অর্থনীতিগুলো বৈষম্যমূলকভাবে ভোগ করতে থাকে, তাহলে কোনো বৈশ্বিক টেকসই কাঠামো টিকবে না।

রবিবার ঢাকার বনানীতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘অ্যামচ্যাম ডায়লগ অন ফস্টারিং সাসটেইনেবল ইনভেস্টমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পখাতে বিশেষত টেক্সটাইল ও জ্বালানি খাতে টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় পানির যথেচ্ছ ব্যবহারে লাগাম টানতে খসড়া নীতিমালাকে চূড়ান্ত করতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করে তা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক এখনো স্থানীয় টেক্সটাইল বাজারে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। এজন্য একটি বাধ্যতামূলক কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা বিধিমালা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য নীতিমালার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে এর সংযোগ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হলেও এর জন্য দায়ী নয়। তাই একটি ন্যায্য বৈশ্বিক টেকসই কাঠামোর প্রয়োজন।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের মডেলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “জনস্বাস্থ্যই আমাদের অগ্রাধিকার।

টেকসই বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এর ব্যয় শুধু উৎপাদকের নয়, ক্রেতাকেও তা ন্যায্যভাবে বহন করতে হবে, যাতে শ্রমিকদের ন্যায্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, সাবেক সভাপতি ফরেস্ট ই. কুকসন, সহ-সভাপতি ও চেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এরিক এম. ওয়াকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তারা তাদের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন