ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকারের সুরক্ষায় সহায়তা দিতে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মিশন: প্রেস উইং

মানবাধিকারের সুরক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তা দিতে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মিশন চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। শনিবার (১৯ জুলাই) প্রেস উইং থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা জানানো হয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, মানবাধিকারের সুরক্ষা ও বিকাশে সহায়তা করার লক্ষ্যে একটি মিশন খোলার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস এবং বাংলাদেশ সরকার ৩ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণও কারিগরি সহায়তা দেয়াই এই মিশনের লক্ষ্য।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পটভূমিতে সংস্কার ও জবাবদিহিতার প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রেস উইং আরও জানায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার–সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনি সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণে বাংলাদেশকে সহায়তা করাই এই মিশনের উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আদর্শিক অবস্থান নিয়ে সমাজের একটি অংশের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, দেশের সমাজ ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অনেক নাগরিক যেকোনো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এই মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে ওএইচসিএইচআর মিশন মানবাধিকারের যেকোনো গুরুতর লঙ্ঘনের প্রতিরোধ ও প্রতিকারের পাশাপাশি বিগত সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর মনোনিবেশ করবে। এটি দেশের প্রতিষ্ঠিত আইনি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে থাকা কোনো সামাজিক এজেন্ডাকে উৎসাহিত করবে না।

প্রেস উইং জানায়, মিশনটি সবসময় স্বচ্ছতা প্রদর্শন করবে এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখবে বলে আশা করি। জাতিসংঘ আমাদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বাস্তবতার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বাংলাদেশে কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যদি এই অংশীদারিত্ব আর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন মনে হয়, তাহলে সরকার এই চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সার্বভৌম কর্তৃত্ব সংরক্ষণ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার দায়মুক্তির যেসব ঘটনা ঘটেছে, সে সময় যদি এ ধরনের একটি সংস্থার কার্যক্রম চলমান থাকত, তাহলে সেই অপরাধের অনেকগুলো ঘটনা হয়তো সঠিকভাবে তদন্ত ও লিপিবদ্ধ করা ছাড়াও বিচার করা হতো। আজকের এই সময়ে মানবাধিকারের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি আদর্শের ওপর নয়, ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

সরকার এই অংশীদারিত্বকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ও নাগরিকদের সুরক্ষা বৃদ্ধির একটি সুযোগ হিসাবে বিবেচনা করে। এটি আইনের মাধ্যমে গঠিত ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হবে এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

সংবাদটি শেয়ার করুন