রাজধানীর মিটফোর্ডে চাঁদা না পেয়ে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
শনিবার দুপুরে পুরান ঢাকার মিল ব্যারাকে বাংলাদেশ পুলিশের তিনটি প্রতিষ্ঠান—ঢাকা জেলা পুলিশ লাইন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) এবং ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস)—পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, পরে র্যাব অস্ত্রসহ আরও দুজনকে এবং রাতের বেলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে। মোট পাঁচজন এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) টিমও এই ঘটনায় কাজ করছে।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনাটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। আমরা এমন একটি দেশে বাস করছি যেখানে সহিংসতা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আমরা জাতি হিসেবে ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি।
তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহনশীলতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষক, অভিভাবক, চিকিৎসকসহ সবাইকে সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক শক্তিকেও এগিয়ে আসতে হবে।
আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উপদেষ্টা বলেন, “যদি তারা কঠোর না হতো, তাহলে এত দ্রুত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা যেত না। এমনকি বিমান ফিরিয়ে আনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুইজনকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চাঁদপুরের ঘটনাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. গোলাম রসুল এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকা জেলা পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং পুলিশ সদস্যদের সমস্যার কথা শুনে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।




