ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা

আমি খালেদা জিয়া বলছি—কণ্ঠ নকল করে এমন কথা বলে ১১ মাসে ২৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এক প্রতারক। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সেই প্রতারককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ৫ নভেম্বর থেকে তিন মাসের ব্যবধানে সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় মোতাল্লেছ হোসেনের নামে জমা হয় ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। হঠাৎ এত টাকা জমা হওয়ায় তার তথ্য চাওয়া হয়। অনুসন্ধানে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় বিএফআইইউ। জব্দ করা হয় মোতাল্লেছ ও তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নয়টি ব্যাংক হিসাব। অনুসন্ধান শেষে সাতটি হিসাবে ২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সন্ধান পায় বিএফআইইউ। এর মধ্যে নভেম্বর থেকে পরবর্তী তিন মাসে জমা হয় ১১ কোটি ১১ লাখ টাকা। তবে মোতাল্লেছের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নের তথ্য বলছে, তাঁর মাত্র ৩৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তাহলে কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে এত টাকা এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করে মোতাল্লেছ ও তাঁর সহযোগী অর্থ চান কিছু মানুষের কাছে। তাতেই তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয় এত কোটি টাকা। বিএফআইইউ ঘটনাটি জানার পর থেকেই লাপাত্তা মোতাল্লেছ। যদিও ভুক্তভোগীর কেউ মামলা করেননি।

একটি সূত্রে জানা গেছে, টাকা জমা হওয়া ব্যাংক হিসাবের নমিনি মোতাল্লেছের ভাই পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুজ্জামান। যিনি বর্তমানে নৌ পুলিশে কর্মরত।

তবে অকো-টেক্স লিমিটেডের পরিচালক মো. মোতাল্লেছ হোসেন বলেন, ‘ভুয়া, বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে। মূলত সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন আইন কর্মকর্তা ও বিএফআইইউর কতিপয় কর্মকর্তা এ হয়রানির নেপথ্যে রয়েছেন।’

বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একই টাকা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর হয়েছে। ফ্রিজ করা হিসাব রিলিজ করতে পরামর্শ দেওয়া হলে ওই ব্যক্তি গত ২০ মে আবেদন করেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে যা দেখেছি, তার সঙ্গে প্রতিবেদনের বেশ পার্থক্য রয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন