্র্বাংলাদেশ সরকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে চীনের একদল বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
পরিবেশ উপদেষ্টা জানান, শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীর সব কাঁচা ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ধুলা দূষণ রোধে রাস্তার মাটি ঢেকে ফেলা, নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, ‘জিরো সয়েল’ নীতির বাস্তবায়ন এবং মাটি শক্তকরণসহ আধুনিক পানি ছিটানো গাড়ির ব্যবহার চালু করা হবে।
তিনি বলেন, শহরের বায়ুদূষণের বড় উৎস পুরনো ও উচ্চমাত্রার ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন। এ বিষয়ে বিআরটিএ পুরনো যানবাহন অপসারণ এবং ২৫০টি নতুন পরিবেশবান্ধব যান যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে সারা দেশে ১০টি স্বয়ংক্রিয় যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে চীনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া উন্নত বায়ু নির্গমন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন, নির্গমন মান উন্নয়ন, স্যানিটারি ল্যান্ডফিল, বর্জ্য ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট চালু এবং রান্নায় এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে কর প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রকল্পের আওতায় দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অব্যাহত নির্গমন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।
এদিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) শহরে পরিবেশবান্ধব পরিবহন চালুর অংশ হিসেবে রাস্তায় বেড়া বসানো এবং ৫০টি বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপদেষ্টা জানান, জাইকার সহায়তায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আটটি বাস্তবভিত্তিক বায়ু গুণমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি BEST প্রকল্পও বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, মো. খায়রুল ইসলাম, নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনুষদের নির্বাহী ডিন অধ্যাপক ইউ ঝাও, সহকারী অধ্যাপক টেংইউ লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠকে জাতীয় নির্গমন ইনভেন্টরি এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে এবং বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর হস্তক্ষেপের পথ উন্মোচন করবে।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “চীনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এই সহযোগিতা বাংলাদেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা।”




