জয়পুরহাটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বলেছেন, ‘ সরকার চামড়ার পুরনো-হারানো যে গৌরব তা ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গত ১০/১২ বছরের মধ্যে এ বছর হাইয়েস্ট প্রাইজে কোরবানির চামড়া বিক্রি হয়েছে। সরকার যে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে সেটা- লবণযুক্ত চামড়া। এ লবণযুক্ত চামড়ার কিছু যে ৪/৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে না- তা নয়, হচ্ছে। সে চামড়া গুলো অনেক ক্ষেত্রেই আধা পচা, অপ্রক্রিয়াজাত এবং চামড়া গুলো লবণ বিহীন।’
মঙ্গলবার বিকালে তিনি জয়পুরহাট শহরের আরাফাত নগর এলাকার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার সংরক্ষণাগার ও স্থানীয় মোকাম পরিদর্শন কালে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,’ আমরা চামড়ার মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য যে কর্মকাণ্ড গুলো করেছি,সরকার উদার বলে প্রায় সাড়ে ৭লক্ষ মন লবণ চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিতরণ করেছে। আমরা মসজিদে খুতবায় এটা ব্যাখ্যা করেছি। আমরা পোস্টার- লিফলেট বিলি করেছি, ৮৬হাজার কসাইকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি, আমরা রপ্তানিকে উদারীকরণ করার জন্য ওয়েট ব্লু এবং কাঁচা চামড়া রপ্তানি তিন মাসের জন্য ওপেন করে দিয়েছি। এর ফলে আমরা মনে করি, একটা চাহিদার সৃষ্টি হবে এবং এ চাহিদার বিনিময়ে-চামড়া উপযুক্ত মূল্যে- চামড়ার যে হারানো গৌরব ইনশাআল্লাহ ফেরত আসবে।’
তিনি আরও বলেন,সরকারের উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে সমস্ত দ্বায় যদি ড. ইউনুসকে দেওয়া হয়, তিনি সব চামড়া কিনে নিবেন, তাহলে এটা জুলুম হয়ে যাচ্ছে। বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে।’
চামড়া পাচার হওয়া সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চামড়া পাচারের আশঙ্কা নাকোচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘চামড়া পাচার রোধে বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত দিনের চামড়া সিন্ডিকেট ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়েছে।’
পরে তিনি জয়পুরহাটের পাকার মাথা এলাকার- আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মারকাজুল উলুম মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন।
এ সময় তার সাথে জেলা প্রশাসক আফরোজা আকতার চৌধুরী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রাশেদুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আব্দুল হাকিম মন্ডল সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




