ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন মামলায় ফাঁসির রায় স্থগিত চেয়ে মেজর জিয়ার আবেদন

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে ধরতে, ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার অস্তিত্ব মেলেনি, পুলিশ সদরদপ্তরের নথিতে। গেলো ২০ এপ্রিল তিন মামলায় ফাঁসির রায় স্থগিত চেয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেন, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। এরই মধ্যে তার ৭ মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশও করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে তথাকথিত জঙ্গি বয়ানের অধিকাংশ ঘটনা সাজানো হয় সাবেক সামরিক কর্মকর্তা সৈয়দ জিয়াউল হককে কেন্দ্রে রেখে। সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা কোথায় আছেন বা কি করছেন ৫ আগস্টের আগে এ সম্পর্কে খুব একটা জানা যায়নি। আগস্টের পর জানা যায় বেঁচে আছেন জিয়াউল হক।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার নাম ছিল পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়। গেল শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক নথি থেকে জানা যায়, সেই তালিকায় আর নাম নেই তার।

মেজর জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন বলেন, আইজিপি অফিস থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, মেজর জিয়াকে ধরতে ঘোষিত ২০ লাখ টাকার পুরস্কারের কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই। এর মানে হয়তো আগে পাওয়া তথ্য ছিল মিথ্যা, অথবা ৫ আগস্টের পর এগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ালো তার যে মোস্ট ওয়ানটেড আসামির স্ট্যাটাস ছিল এখানে সেটা আইজিপি অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী নেই।

আরও তথ্য হলো জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে মোট মামলা ছিল ১২টি। এর মধ্যে যে তিনটি মামলায় ফাঁসির রায় ছিল সেই সাজা স্থগিত চেয়ে গেল ২০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন তিনি। এরইমধ্যে ৭ মামলা প্রত্যাহারে সুপারিশও করা হয়েছে।

মেজর জিয়ার আইনজীবী আরও বলেন, মেজর জিয়া ২০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছেন ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৪০১ ধারায় মামালার শাস্তি সাসপেন্ড অথবা মওকুফ করার জন্য। ৯টি মামলা যদি প্রত্যাহার হয় এবং তিনটি ফাঁসির সাজা যদি বাতিল হয়, তাহলে মেজর জিয়া মুক্ত জীবনে ফিরতে পারবেন। আমরা আশা করি সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

যাকে নিয়ে এতো আলোচনা, সেই সৈয়দ জিয়াউল হক একটি গণমাধ্যম কে জানিয়েছেন, সবকিছু আইনিভাবে মোকাবেলা করতে চান তিনি।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ জিয়াউল হক বলেন, আমার নামে সাজানো বিভিন্ন মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি ফাঁসির দণ্ড রয়েছে। এগুলো বাতিলের আবেদন করেছি, যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা সহজ হয়।

এসব কথা জানালেও জিয়াউল হক জানান নি কোথায় আছেন তিনি। জানা নেই তার আইনজীবীরও। তবে জানান, তার মামলাগুলো পূর্ণাঙ্গ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরবেন না তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন