ঢাকা | বৃহস্পতিবার
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নদীতে ইলিশ নেই

অবরোধের পর থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে মেঘনা নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। মাছের আড়ত ও বাজার ফাঁকা। ইলিশ শূন্য বিভিন্ন জাতের মাছের দেখা মিলছে। দু’একটা ইলিশের দেখা মিললেও দাম চওড়া…। বাজারে ক্রেতার ভিড়ে ইলিশ খোজাঁ যাচ্ছে না.। শখের বশে ইলিশ কিনতে বাজার এবং ঘাটে ক্রেতাদের উপছে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, দাদনের টাকায় জেলেরা হাহুতাশ করছে। কিভাবে মহাজনের দাদনের টাকা শোধ করবে। মোটা অংকের টাকা জেলেরা দাদন নেন। নদীতে মৌসুমে মাছ ধরে শোধ করবে। আনন্দে পরিবার পরিজন নিয়ে আরাম-আয়েশ করবে। কিন্তু হচ্ছে না। দাদনের টাকা শোধ ও পরিবার চালানোর চিন্তায় অস্থির, হাহুতাশ চলচে জেলে পল্লি পাড়ায়। দাদন জেলে পাড়ার সবসময়ের রীতি ও নীতি। দাদন ছাড়া জেলেরা অচল। তাদের মুল শক্তি মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নদীতে মাছ ধরা।

আড়ৎদারের বাক্স খালি, জেলের জাল ফাঁকা। ইলিশ নেই নদীতে মাছও নেই। অপেক্ষা চলছে জেলেরা নদী থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে আড়তে আসবে..। কিন্তু না..জেলেদের জাল ফাঁকা…। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে জাল পেলে বসে থাকা। জাল টেনে নৌকায় তুলে হতাশ আর হাহুতাশ এবং শূণ্যতা

জেলার মেঘনা নদীর ইলিশ দেশের বিভিন্ন বাজারে সুস্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত। মেঘনার ইলিশের আলাদা চাহিদা সারা দেশে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও মেঘনার ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে। অথচ এখন দেশের চাহিদা মেঠানাে সম্ভব হচ্ছে না।

আড়তদার বাবুল বলেন, জেলেদের দাদন হিসেবে প্রচুর টাকা দেয়া হয়েছে। মৌসুমে মাছ পড়বে টাকা শোধ হবে। আড়তদার ও জেলেরা মাছের আমজে দিনপার করবে। কিন্তু হচ্ছে না। নদীতে ইলিশের দেখা নেই। গত তিন মাস নদীতে ইলিশ ফাঁকা জাল নিয়ে জেলেরা কিনারায় ফিরছে। জেলে এবং আড়তদারদের মন খারাপ। এবার প্রতিটি আড়তদার দাদনের টাকার শত ভাগের ৫ ভাগও তুলতে পারবে না। এদিকে জেলেরা আড়তদার ও মহাজনের প্রচুর টাকা দেনা হবে। দাদনের টাকা শোধ করতে দু’তিন মৌসুম লাগতে পারে। প্রতিটি মহাজন ও জেলেদের মন খারাপ।

আড়তদার হেলাল বলেন, কোটি টাকা দাদন দিয়েছি। জেলেরা মাছ পাচ্ছে না। ইলিশ নেই বললেই চলে। ইলিশ পাচ্ছে একটা-দুইটা-তিনটা পর্যন্ত। তাও সাইজে ছোট। অন্য মৌসুমে অবরোধের পর প্রতিদিন ১৫-৩০ হাজার টাকার মাছ পেত। এখন ইলিশ ছাড়া অন্য জাতের মাছ পাচ্ছে। অন্য জাতের বাছা মাছ দিয়ে তো দাম হয় না..। জেলেরা দাদনের টাকায় অস্থির হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামার পর থেকে রাত এবং ভোর পর্যন্ত মাছ ধরতে নদীতে থাকে। সারা রাত-দিন অধিক কষ্ট করেও ইলিশের সন্ধান পাচ্ছে না। অবরোধের পর থেকে কোন ইলিশ নেই। প্রতিটি জেলের কাছে প্রচুর টাকা আটকা পড়েছে। কেমন করে শোধ করবে..তারা..?বুঝতে পাচ্ছি না। এভাবে চলছে তো পথে বসে যাবো…।

জেলের আনিস মাঝি বলেন, এবার অনেক টাকা মহজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছি। অবরোধের পর মনে করেছি নদীতে ইলিশের ঝাঁক পড়বে। কিন্তু গত তিন মাস নদীতে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে না। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত নদীতে মাছ শিকার করি। কিন্তু ইলিশের দেখা নেই। অন্য মাছ পাচ্ছি। এগুলো দিয়ে তো নৌকা-বোটের তৈলের টাকাও উঠে না। তারপর প্রতিদিন ৭-৮জন জেলে নদীতে যায়। তাদের রোজকার টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। প্রতিদিন লোকসান দিচ্ছি। এদিকে মহাজনরা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। সংসার চালাতে হিশমিশ খাচ্ছি।

স্থানীয় জেলে সূত্রে জানা যায়, রামগতি-কমলনগরে প্রায় ৫’শত জেলে দাদনের টাকায় নদীতে মাছ ধরতে যায়। অবরোধের পর থেকে নদীতে ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে না। নৌকার খরচ তোলা এবং জেলেদের প্রতিদিনের রোজগার হচ্ছে না। দাদন নিয়ে মহা সমস্যায় পড়েছে জেলেরা। এদিকে মহাজনরা দাদন দিয়ে বিপাকে রয়েছে। নদীতে মাছ পড়ছে না।তারাও বিপাকে রয়েছে।

ক্রেতা আমিনুল বলেন, প্রতিটি জেলে ইলিশ শূন্য অন্য মাছ বিক্রি করছে। ছোট-খাটো কিছু ইলিশ দেখা গেলেও দাম হাঁকাচ্ছ নাগালের বাহিরে। ৬-৭ পিস ইলিশ মাছের কেজি ১ হাজার থেকে ১২শত টাকা। অথচ এসব মাছের দাম ছিল মাত্র ২-৩ শত টাকা। বড় মাছের তো দাম সোনার হরিণের মত..।

মাছের ঘাট মাতাব্বর হাট গেলে দেখা যায় প্রতিটি বাক্স খালি। জেলেরা কিছু মাছ নিয়ে আসলেও সাথে ইলিশ নেই। (জেলে- আড়তদার) সবার মন খারাপ। প্রতি জোয়ারে ১ হাজার দেড় হাজার টাকার মাছ পাচ্ছে। অথচ খরচ পড়ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.আব্দুল কুদ্দুস বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলায় রামগতি-কমলনগরে মেঘনা নদীতে ডুবচর বেশি দেখা যাচ্ছে। ডুবচর, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক কারণে নদীতে ইলিশের চাহিদা কম। ইলিশ মাছ সাধারণ কিছু সৃজনী নিয়মে চলাচল করে। গত কয়েক বছরের মতে এবারই নদীতে ইলিশ মাছ জালে ধরা কম পড়ছে। এটা বেশি দিন থাকবে না।

আনন্দবাজার/শহক

সংবাদটি শেয়ার করুন