ঢাকা | শুক্রবার
২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে প্রাণহানির শঙ্কা

ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে প্রাণহানির শঙ্কা

গত মঙ্গলবার সকালে বালুভর্তি ট্রাক আটকে গেলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অল্পের জন্য ট্রাকের চালক, সহযোগী ও শ্রমিকরা প্রাণে রক্ষা পেলেও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে বড় ধরণের দুর্ঘটনায় প্রাণহাণির আশঙ্কায়ও মেরামত করা হচ্ছে না সড়ক। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়রা

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি রেলক্রসিংয়ে আঞ্চলিক সড়কের খানাখন্দে কয়েক দিন পর পর আটকে পড়ছে মালবাহী ভারী যানবাহন। মঙ্গলবার সকালেও সেখানে বালুভর্তি ট্রাক আটকে গেলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অল্পের জন্য ট্রাকের চালক, সহযোগী ও শ্রমিকরা প্রাণে রক্ষা পেলেও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে বড় ধরণের দুর্ঘটনায় প্রাণহাণির আশঙ্কায়ও মেরামত করা হচ্ছে না সড়ক। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন।

এলাকাবাসী, যাত্রী, রেল ও সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকার ধামরাই-গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত সহজ হওয়ায় এ পথে ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ চলাচল করে। সে সুবাদে প্রতিনিয়ত ওই সড়কে হাজার হাজার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে আসছে। এছাড়া ওই সড়কের উপর দিয়ে বয়ে গেছে উত্তরবঙ্গে যাতায়াতের রেললাইন। যে রেললাইনটি ঢাকা ও  উত্তরবঙ্গের একমাত্র রেলপথ। সে সুবাধে ওই রেলপথে প্রতিনিয়ত ট্রেন চলাচল করে আসছে। নিরাপদে যাতায়াতের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ওই রেললাইনের কালিয়াকৈর উপজেলার ভুঙাবাড়ি এলাকায় একটি গেইট বেড়িয়ার স্থাপন করেন। এছাড়া বছর খানেক আগে ধামরাই-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কটি মেরামত করলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই ওই রেলক্রসিং সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। ওই খানাখন্দে কিছুদিন পর পর মালভর্তি ভারী যানবাহন আটকে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার সকালেও ঢাকার ধামরাইগামী বালুবাহী একটি ট্রাক ওই রেলক্রসিংয়ে আটকে পড়ে। ফোনে যোগাযোগ করে ওই স্থানে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে অল্পের জন্য রক্ষা পাচ্ছেন যানবাহনের চালক, সহযোগী ও বালু শ্রমিকরা। এদিকে প্রায় পৌণে এক ঘন্টা ট্রেনটি থেমে থাকায় শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন ট্রেন যাত্রীরা। এর আগেও রেলক্রসিংয়ে ওই সড়কের খানাখন্দে বেশ কয়েকবার যানবাহন আটকে পড়ে। অল্পের জন্য রক্ষা পান যানবাহন ও পরিবহন শ্রমিকরা। সেখানে যানবাহন আটকে গেলে বাধ্য হয়েই লাল নিশান বা ফোন করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করতে হচ্ছে। এতে শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন ট্রেন যাত্রীরা। সেখানে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও সড়কটি মেরামত করা হচ্ছে না। এ নিয়ে কারো যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন। তবে রেল বিভাগ ও সড়ক বিভাগের ঠেলাঠেলিতে সেখানে মেরামত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঠেকাতে অতিদ্রুত সেখানে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বঙ্গবন্ধু হাইটেক রেলস্টেশনের মাস্টার তাউলাদ হোসেন জানান, সকালে ট্রাক আটকে পড়লে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে সেখানে মেরামতের দায়িত্ব আমার নয়।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভি আহম্মেদ সুজন জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি। ওই বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ওই রেলক্রসিংয়ের সড়কটি মেরামত করা হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি ওই সড়কটি মেরামত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন