মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
লাভে বাড়ছে চাষ---

ঘেরের পানিতে মাছ, আইলে সবজি

ঘেরের পানিতে মাছ, আইলে সবজি
  • জনপ্রিয়তা পাচ্ছে অভয়নগরের বিষমুক্ত সবজি চাষ

যশোরের অভয়নগরে মাছের চাষ বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ঘেরের আইলে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ। চলতি বছরে অভযনগর উপজেলায় ৪২৫ হেক্টর জমির আইলে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৮হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ঘেরের আইলে সবজি আর নিচে পানিতে মাছ। ঘেরের আইলে বিষমুক্ত সবজি চাষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে অভয়নগরে। ক্রমেই বাড়ছে এ চাষ পদ্ধতি। এতে উপজেলায়  সবজি চাষে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। ধান ও মাছের পাশাপাশি ঘেরে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন এখানকার কৃষকরা। মৌসুমী ধান ও মাছ চাষ করে একসময় যাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটত, লাভজনক এ সবজি চাষে এখন তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাছের ঘেরে যতদূর চোখ যায় সবুজের হাতছানি। ঘেরের আইলে ও আইলের ওপরে নির্মিত সারি সারি মাচায় ঝুলছে করলা, লাউ, কুমড়া, ধুন্দল, ঝিঙ্গা আর শসা। আইলে বিশেষ পদ্ধতিতে বাঁশ ও নেট দিয়ে ঝুলন্ত মাচা তৈরি করা হয়। তারপর বিষমুক্ত সবজির আবাদ করে বাড়ন্ত গাছ মাচার ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে জায়গাও কম লাগে ও অল্প পরিচর্যায় ভালো ফসল পাওয়া যায়।

উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের সিদ্ধিপাশা গ্রামের সাখাওয়াত গাজী  জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে মাছের ঘেরের চারপাশে সবজি চাষ করেছেন। তার এ চাষে সবমিলে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। যেখান থেকে সবজি বিক্রয় করেছেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  করোনা মোকাবেলায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করলেন বিদেশি কূটনীতিকরা

ইউনিয়নের আরেক কৃষক আলামীন গাজী  জানান, তার ২ বিঘা ঘেরের আইলে মাচা পদ্ধতিতে সবজির চাষ করেছে। উৎপাদিত সবজি পাইকারি বেপারিদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এতে সংসার ভালোভাবে চলার পরও কিছু টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। সেই টাকা দিয়ে ঘেরে মাছের খাবার কেনেন।

একই এলাকার রবিউল গাজীসহ  সবজি চাষিদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বর্তমানে দেশে ও বিদেশে সবজির ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় গতকয়েক বছরে মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি চাষে ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে তাদের জীবনে। এছাড়া সবজি চাষে বদলে গেছে তাদের মতো বহু কৃষকের ভাগ্য।

সিদ্ধিপাশা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিউর রহমান জানান, কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এজন্য নিয়মিত উঠান বৈঠক ও সবজির ক্ষেতে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ ও পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদসহ বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানি জানান, অভয়নগর উপজেলায় ঘেরের পাড়ে সবজি চাষ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে শসা ক্ষিরাই করলা লাউ প্রচুর পরিমানে হচ্ছে এবং একই সঙ্গে তরমুজের আবাদ ও বাড়ছে। পদ্মাসেতু হওয়ার কারণে অত্র এলাকা থেকে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হওয়াতে একটি বড় বাজার এখানে সৃষ্টি হচ্ছে। লাভজনক কৃষি হিসাবে চাষিরা ঘেরের পাড়ে সবজি চাষটা গ্রহণ করছে এবং তারা উৎসাহিত হচ্ছে আধুনিক কৃষিতে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন