শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে স্বাস্থ্যসেবায় সুবাতাস

সোনারগাঁয়ে স্বাস্থ্যসেবায় সুবাতাস

ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দুরত্ব ঐতিহাসিক বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ। রাজধানী থেকে অল্প কিছু মাইল দুরত্ব হলেও স্বাস্থ্যখাতে রয়েছে অব্যবস্থাপনা। সাড়ে পাঁচ লাখ লোকের বসবাস করা সোনারগাঁয়ে রয়েছে একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল। যেখানে রয়েছে নামে মাত্র চিকিৎসাপত্র। ডাক্তার সংকট, ডাক্তার থাকলে হাসপাতালে আসেন না। অনেকে আবার চাহিদা দিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যকোন হাসপাতালে চলে যাওয়া, বেডের অভাব, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নেই, ঔষধ সংকটের সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে, সকল প্রকার সমস্যা কাটিয়ে সু-চিকিৎসার সুবাতাস নিয়ে এবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যা হাসপাতাল থেকে উন্নীত হয়ে ৫০ শয্যা হাসপাতলে রূপ নিয়েছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে প্রয়োজনীয় বিশাল ভবন, প্রয়োজনীয় লোকবল, ডাক্তার-নার্সসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত মানের ল্যাব।

জানা যায়, স্বাধীনতার পূর্বে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধের জন্য কাজ কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সের যাত্রা শুরু করে। প্রথমে স্বল্প পরিষরে স্বাস্থ্যসেবা শুরু হলেও পরবর্তীতে ২০ শয্যা হাসপাতালে উন্নিত করা হয়। এ ২০ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে দীর্ঘদিন সেবা দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে সোনারগাঁবাসি। রাজধানীর এতো কাছে হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। প্রয়োজনীয় ডাক্তার নার্স, ঔষধ, বেড উন্নত মানের কোন যন্ত্রাংশ, অপারেশন থিয়েটার না থাকার কারনে স্বাধীনতার পর থেকে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে এসেছে এখানকার মানুষ। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের তদারকি না থাকার কারণে ধীরে ধীরে হাসপাতালটি দূর্নীতি আখড়ায় পরিনত হয়েছিল। তবে সকল শঙ্কা কাটিয়ে এবার ২০ শয্যা হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নব নির্মিত ভবনের উদ্ধোধন করা হয়। ভবনটি উদ্ধোধন করেন সোনারগাঁয়ের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা।

আরও পড়ুনঃ  জেলেরা ৬০ দিন মাছ না ধরে পাচ্ছেন ৮০ কেজি চাল

বর্তমানে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিসিন, ডেন্টাল, হোমিওপ্যাথী, গাইনী, মা ও শিশুসহ ১২জন চিকিৎসক নিয়মিত চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন। এছাড়া হাসপাতাল ল্যাবে ২০টি বেশী রোগের পরিক্ষা করা হয়। হাসপাতাল থেকে বহি:বিভাগ ও জরুরী বিভাগে ২৭টি ঔষধ দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন সমস্যায় ভর্তিকৃত রোগীদের তিন বেলা খাবার দেয়া হয়।

লেখক ও সাহিত্যিক হাজী মোহসিন জানান, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোনারগাঁবাসী ছাড়াও আড়াইহাজার ও মেঘনা থানায় অনেক লোক চিকিৎসা নিতে আসেন। সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি না থাকার কারণে দীর্ঘদিন যাবত সোনারগাঁবাসী সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এখন হাসপাতালটি ২০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়াতে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে পূর্বের ন্যায় যাতে হাসপাতালটিতে যেন অনিময় না হয়ে সে জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সজিব রায়হার জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীত করেছে। এখন সোনারগাঁবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারসহ অন্যান্য যন্ত্রাপাতি স্থাপন করা হবে। এছাড়া নতুন করে কার্ডিওলোজি, অর্থোপেডিকস, শিশু, আই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি আরও জানান, সকল বিভাগ এক সঙ্গে চালু হলে সাধারণ চিকিৎসার জন্য সোনারগাঁবাসীকে কষ্ট করে ঢাকার অন্যকোন হাসপাতালে যেতে হবে না।

 এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জেন মশিউর রহমান জানান, সোনারগাঁবাসী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সে জন্য হাসপাতালটিকে ২০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এখন থেকে সোনারগাঁবাসী সোনারগাঁ থেকেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন। এছাড়া হাসপাতালের অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। এখন থেকে ডাক্তাররা নিয়মিত রোগীদের সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন