শুক্রবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গো-খাদ্যের দামে বিপাকে খামারি

গো-খাদ্যের দামে বিপাকে খামারি
  • খামারির ভরসায় কচুরিপানা

গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিপাকে পড়েছেন রামগঞ্জ উপজেলার খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা। গরু পালনের ব্যয়ের সঙ্গে মিলছে না আয়োর হিসেব। হিসেব-নিকেষ করে তেমন লাভের মুখ না দেখলেও এককালীন কিছু টাকা পাওয়া যায় তাতেই সাধারণ কৃষকের সান্তনা! গরুর খাদ্যের মধ্যে অন্যতম খড়-কুটাসহ অন্য খাদ্যের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে এমনটাই জানালেন রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরুর খামারিরা।

রামগঞ্জ উপজেলায় কৃষকের গবাদিপশুর খাদ্য ঘাটতির জন্য কচুরিপানায় একমাত্র ভরসা। এখানে বর্ষার শুরুতেই পুকুর, খালবিল, নদীনালা, পানিতে ভরে যায়। এতে গবাদিপশু সবুজ ঘাসের খাদ্যসংকটে পড়ে। তাছাড়া খড়, খৈল, ভূসি ইত্যাদি ক্রয়কৃত খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক চরম বিপাকে। তাই গবাদিপশুকে বাঁচিয়ে রাখতে বা সবুজ ঘাসের ঘাটতি মেটাতে কচুরিপানাকেই প্রধান উৎস হিসেবে বেচে নিয়েছে। তাই উপজেলার খালবিল, নদীনালায় ভেসে আসা কচুরিপানা রোদ বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকেরা সংগ্রহ করে গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য। প্রতিটি জলাশয়ে সকাল বিকাল এমনই চিত্র দেখা যায় ।

উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, আগামী বছরের কোরবানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিরা। কারও রয়েছে দুগ্ধজাত খামার আবার কেউ শুধুমাত্র ঈদ ও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পালন শুরু করেছেন গরু। এসব খামারে সংকট রয়েছে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়-কুটা, ভূষি, খৈলসহ আরও অনেক খাদ্য।

যেভাবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ছে তাতে আর গরু পালন করা সম্ভব হবে না হয়ত। খামারের গরুগুলোকে এক মাস আগে যে খাবার দিয়েছি এখন তার অর্ধেক পরিমাণে দিচ্ছি। এতে গরু কাহিল হলেও আমার আর কিছুই করার নেই।’ ১৫ দিন আগে ৩৫ কেজি ওজনের গমের দাম ছিল এক হাজার ১১শ’ টাকা সে ছালের দাম হয়েছে ১৯শ’ টাকা। অনেকে বাধ্য হয়েই সাধ্য মতো খড়ের আটি কিনছেন।

আরও পড়ুনঃ  মিয়ানমারে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

১শ’ খড়ের আটি সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের ফিড প্রকার ভেদে সাড়ে ৭০০ থেকে ১৩৫০ টাকা ও গমের ভূষি প্রকার ভেদে প্রতিবস্তা ১৮০০/১৯০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলায় তার মতো উদ্বিগ্ন বহু খামারি বা ছোট কৃষক পরিবার। গরু-মহিষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে পানিতে ভাসমান কচুরিপানার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন অনেকেই। তারা আসন্ন বাজেটে গো-খাদ্যের দাম কম রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চাষিরা জানান, ছয়মাস আগে একবস্তা ভালোমানের গমের চাল বিক্রি হয়েছে ১২০০-১২৫০ টাকায়। যা এক বছর আগে ছিল ৯৫০-১০০০ টাকা। একইভাবে ছয় মাস আগে মাসকলাইয়ের ভূষির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০০-১৪৫০ টাকায়। এক বছর আগে ছিল ১১০০-১২০০ টাকা। এক বছর আগে এক বস্তা খৈল বিক্রি হয়েছে ২৫০০-২৬০০ টাকায়। এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৩৩শ’-৩৪শ’ টাকা। ছয়মাস আগে ডালের ভূষির বস্তা (৩৫ কেজি) ছিল ১২শ’ টাকা, অ্যাংকর ডালের ভুসি ৮শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। এরপরও ধীরে ধীরে গো-খাদ্যের দাম বাড়ছিল। তবে, গত ১৫ দিনে দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

গরু পালন করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, একটি গরুর সারা বছরের শুকনা খাবারের জন্য খড়ের বিকল্প নেই। তিনবেলা নিয়ম করে অন্যান্য খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি খড় দিতে হয়। কুড়া-ভুসি, চাল ফুটানো মিলিয়ে খাওয়ার সঙ্গে খড় কেটে পানির সঙ্গে ভিজিয়ে খাওয়ানো হয়। এছাড়াও তিনবেলা খাওয়ার বাইরে খড় ও কাঁচা ঘাস দিতে হয়। ঘাসের তুলনায় খামারে খড়ের প্রয়োজনীয়তাই বেশি। আর এ কারণেই প্রত্যেক খামার বা সাধারণ গেরস্থদের কমপক্ষে এক বছরের জন্য খড় কিনে রাখতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  সংকটে নয় চাপে অর্থনীতি

এ মৌসুমে কিনে আগামী কোরবানি পর্যন্ত খড়-খাদ্যের যোগান দিতে হয় খামারে। খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণেরাও। দাম বেশি হওয়ার পরও সংকট রয়েছে খড়ের। খড়ের দাম বাড়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। গত কয়েক বছরে রামগঞ্জ উপজেলায় গরুর খামার বেড়েছে। নতুন খামার তৈরিতে ঝুঁকছেন যুবকেরা। দুগ্ধজাত গরুর ও মোটাতাজাকরণ উভয়ই থাকছে খামারে। দিন দিন খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে খামারদের যেমন কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে সেসঙ্গে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। যারা বাড়িতে দুই/তিনটি করে গরু পালন করেন কোরবানিতে বিক্রির আশায়।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন