ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাঁধ ভেঙে আখাউড়ার দুই ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বাঁধ ভেঙে আখাউড়ার দুই ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে আখাউড়ার সীমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার এখনও পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে প্রবল বেগে আসা পানিতে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের কর্নেল বাজার সংলগ্ন আড়িয়ল গ্রামের সড়ক দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে। ডার কারণে এ সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে রাতে হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে আখাউড়ার সীমান্তবর্তী মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে। ঢলের এ পানিতে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দুর্গতদের প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা ও আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। 

এপানিতে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দুপাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর, সাহেবনগর, খলাপাড়া, উমেদপুর, সেনারবাদী, কুসুমবাড়ি, আওরারচর, ছয়ঘরিয়া, বাউতলা, দরুইন, বচিয়ারা, নোয়াপাড়া, নিলাখাত, টানুয়াপাড়া, ধাতুর পহেলা, চরনারায়ণপুর, ভাটামাথা, চন্দ্রপুর, ধরখার গ্রাম, ভিনাউটি, ভবানীপুর, খারকুট, মিনারকুট, কুড়িবিল, পদ্মবিল, টনকি, ইটনা, কর্নেল বাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে ভারি বর্ষণের কারণে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর ও আবদুল্লাহপুর গ্রামের প্রায় ৯০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি কয়েকটি পরিবার স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

এছাড়া আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে চলা কালন্দি খাল দিয়ে ভারতীয় পানি হু হু করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয় ও কাস্টমস হাউজ এলাকায়।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা বলেন, হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এতে মানুষ পানিবন্দি হওয়ার কোনো এখনো আমরা পাইনি। যদি পানিবন্দি হয় তাহলে তাদের তালিকা করে আমরা সহায়তা করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন