সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্মাণ শেষের আগেই ধস!

নির্মাণ শেষের আগেই ধস!
  • সেতুর সাড়ে তিন কোটি টাকা গর্তে

টাঙ্গাইলে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর মাঝখানে দেবে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল-বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কের বেড়ডোমা এলাকার লৌহজং নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দেবে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ-নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার কারেণ সেতুটি দেবে গেছে। এছাড়াও এখানে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতিও রয়েছে।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা সেতুটির বাস্তবায়ন করছে। আট মিটার প্রসস্ত ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর থেকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ব্রিক্স এন্ড ব্রিজ লিমিটেড এন্ড দি নির্মিতি নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন শুরু করে। গত ১১ মে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে, গত সপ্তাহে সেতুটির ওপরে অংশে ঢালাই করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুটির সেন্টারিং সাটারিং সরে গিয়ে মাঝখানে প্রায় সাড়ে তিন ফুট দেবে যায়। এতে নির্মাণকৃত সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না। এতে এক দিকে সরকারের সাড়ে তিন কোটি টাকা অপচয় হলো অন্যদিকে পশ্চিম টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেলো কয়েক গুণ।

বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেছে। ভেবেছিলাম অল্পদিনের মধ্যেই এ সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারবো। তবে, এখন আরও দুর্ভোগ বেড়ে গেলো। সেতুটি নির্মাণের শুরুতে বিকল্প হিসেবে বেইলি ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। সেটির অবস্থাও ভালো না। যানবাহন নিয়ে চলাচল করা যায় না।’

আরও পড়ুনঃ  ঝুঁকিপূর্ণ আত্রাই বেইলি ব্রিজ: নেই কর্তৃপক্ষের নজরদারী

ভুক্তভোগী খোরশেদ হোসেন বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবো গেছে। এতে আমাদের আরও কয়েক বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’

৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দুর্ভোগ লাঘবে কাজটি শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোনও কথাই শুনে না। সেতুটি দেবে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেলো।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার। তবে জামিল ভাইসহ কয়েকজনে বাস্তবায়ন করছে। আমার নেতৃত্বে কোন কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার শিব্বির আহমেদ আজমী বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে মুল রহস্য উদঘাটন করা হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন