মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্গম পাহাড়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, ৯ জনের মৃত্যু

দুর্গম পাহাড়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, ৯ জনের মৃত্যু

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রি ইউনিয়নে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত চার দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারেশা পাড়ার বাস্নিদা লংঞী ম্রো (৪৯), সংদন ম্রো (৮), সংওয়ে ম্রো (৬), রুইরক ম্রো (৫০) ও প্রেলি ম্রো (৩৬) এবং মেনতাং পাড়ার বাসিন্দা ও পাড়া কারবারী  মেনথাং ম্রো (৪৭), য়ংনং পাড়ার বাসিন্দা ক্রায়ন ম্রো (৫০), সিংচ্যং পাড়ার বাসিন্দা প্রেনময় ম্রো (১২) ও বড়মদক ভিতর পাড়ার বাসিন্দা ডওয়াই সাইন মারমা (২০)। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছে চার টি পাড়ার ৬০ জনের অধিক বাসিন্দা।

জানা গেছে, শুষ্ক মৌসমে বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দেওয়া দূষিত পানি পান করায় রেমাক্রি ইউনিয়নে দূর্গম মেন থাং পাড়া, নারিচা পাড়া, ইয়ং নং পাড়া ও সিং চং পাড়ায়  অর্ধশতাধিক মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে। দূর্গম এলাকা হওয়াই ওষধ ও খাবার স্যালাইনের অভাবে আক্রান্তের অনেকে মারা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রেমাক্রি ইউরিয়নের চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মার্মা জানান, বর্ষায় শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে ঝিড়ি-ঝর্ণা-খাল থেকে দুষিত পানি পান করার কারণে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। এই পর্যন্ত চারটি পাড়ায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত ওষধ, খাওয়ার স্যালাইন ও মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও দূর্গম আন্দার মানিক এলাকায় একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। যাতে করে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, থানচির দুর্গম এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এই পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু খবর পেয়েছি। দূর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত ওষধ ও খাওয়ার স্যালাইন সরবরাহসহ মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই টিম কাজ করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

আরও পড়ুনঃ  শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে

দূর্গম এলাকা হওয়াতে যাতায়ত ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালে এনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। মূলত এই সময়ে পাহাড়ে ঝিড়ি-ঝর্না পানি দূষিত হওয়াই ওই সব পানি পান করে পাড়ার মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। গত ৮ জুন থেকে রেমাক্রি ইউনিয়নের দূর্গম সীমান্তবর্তী মেনতাং পাড়া, ক্রাইয়ং পাড়া, ইয়ংনং পাড়া ও সিংচং পাড়ায় দেখা দেয় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন