শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, উৎসবমুখর চাঁদাবাজি

শিল্পনগরীর ফুটপাত যেন মরণফাঁদ

শিল্পনগরীর ফুটপাত যেন মরণফাঁদ

রাজধানীর অদূরে শিল্পনগরী আশুলিয়ার ফুটপাত যেন পথচারিদের জন্য এখন এক ভয়ঙ্কর মরণ ফাঁদ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ আশুলিয়ার সকল রাস্তাঘাট দখল করে নিয়ে বিভিন্ন দোকানপাট বসিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের  নেতাকর্মীরা। অসাধু নেতারা এসব দোকান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন।

এতে পথচারিরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রাণহানীসহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে সওজ কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে নামমাত্র উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। এতেও মিলে না সঠিক সমাধান। উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই আবারও পূর্বের ন্যায় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয় দোকানপাট।

এ নিয়ে কয়েকজন পথচারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে যে হেঁটে বাসায় যেতে পারিনা। অপর এক গার্মেন্টস শ্রমিক ইসমাইল হোসেন (৪০) বলেন, বাইপাইল, রপ্তানি, বলিভদ্র, জামগড়া, নবীনগর ইত্যাদি এসব জায়গায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে আর এ জন্য দায়ি বাস, ট্রাকসহ অন্যকোনো পরিবহনের কোনো লোকজন নয়, যারা রাস্তাঘাট দখলে করে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করেন তারাই দায়ি।

মোছা. সেলিনা আক্তার (৩৫) নামে এক পথচারি বলেন, শুধু ফুটপাত নয় অদৃশ্য নেতা বাবুরা ফুটওভার ব্রিজ ও ভাড়া দেন হকারদের কাছে। এতে আমরা ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে ও নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারিনা।

এ বিষয় নিয়ে ঠিকানা পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা হলে তারাও দায়ি করেন ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো অদৃশ্য ক্ষমতাধর অসাধু নেতাকর্মীদেরই।

আরও পড়ুনঃ  ৬ মাসে কেরুর রেকর্ড ২৩৩ কোটি টাকার মদ বিক্রি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মী বলেন, আমাদের দলে কিছু হাইব্রিড নেতা আছে তারাই এসব করে বেড়ায়। আমরা এসব নিয়ে অভিযোগ করলে  ঊর্ধ্বতন নেতারা দেখে ও না দেখার ভান করে চলেন। এখানে হকারদের কোনো দোষ নেই। তারা পেটের দায়ে জীবিকার ত্যাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটপাতে বসেন। তবে, তাদের মুক্তি কোথায়? সরকারি রাস্তায় বসে ও তাদের চাহিদা মত চাঁদা দিতে হয়।

যারা পথচারিদের সমস্যার সৃষ্টি করে এসব অসহায় হকার তথা দোকানীদের কাছ থেকে দৈনিক, মাসিকসহ বিভিন্ন নিয়মে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে তাদের আগে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ, নয়তো এসব লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে কিছুই হবে না।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম বলেন, আমরা ফুটপাতে নানা সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে থাকি। এর পরেও ফুটপাত ব্যবসায়ীরা আবার ব্যবসা শুরু করে। এবার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। অতিদ্রুত তা কার্যকর আমরা করবো ইনশাল্লাহ্।

জনমনে প্রশ্ন বার বার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার পরও কিভাবে বসছে এসব ভাসমান দোকান। আর কে বা পর্দার আড়ালে থেকে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা চাঁদা।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন