শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাস্তায় কাজের নামে চরের মাটি লুট

রাস্তায় কাজের নামে চরের মাটি লুট

মুন্সিগঞ্জে শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়ায় রাস্তার কাজের নাম করে পদ্মা চরের মাটি লুট করা হচ্ছে। বাঘড়া বাজার সংলগ্ন পদ্মার চরে স্ক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে মাহিন্দ্রায় আনা এসব মাটির সিংহ ভাগই অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৪ দিন ধরে ওই চরে যত্রতত্রভাবে মাটি কাটা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঘড়া বাজারের পশ্চিম দিকে চরে ভেকু মেশিনে মাটি কেটে মাহিন্দ্র ট্রলিতে ভরা হচ্ছে। এসব মাটি টানার কাজে প্রায় ১০টি মাহিন্দ্র ব্যবহিৃত হচ্ছে। মাটি বোঝাই এসব ঝঁকিপূর্ণ ট্রলিতে খেলার ছলে এলাকার শিশুদের চরতে দেখা গেছে। এ সময় মো. হাফিজ নামে এক ব্যক্তি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আবু আল নাসের তানজিলের নির্দেশক্রমে চরের মাটি কাটছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বাঘড়ার রুদ্রপাড়া, তালুকদার বাড়ি ও কাদির কান্দা রাস্তার কাজের নামে চরের মাটি কাটা হচ্ছে। এ কাজের আড়ালে মাটির কিছু অংশ রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হলেও বেশীর ভাগ মাটি ব্যক্তি স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। অপরদিকে মাটিভর্তি মাহিন্দ্র ট্রলির ওভারলোডিংয়ের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট আরো বেহাল করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, চরের মাটি কাটা হচ্ছে রাস্তার কাজের জন্য। কিন্তু এ কাজে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা গোপনে মাটি বিক্রিও করছেন। বাঘড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু আল নাসের তানজিলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পিআইও অফিসের বরাদ্দে রাস্তার কাজের জন্য চরের মাটি কাটা হচ্ছে। এ মাটি শুধু রাস্তার কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে আইনি ব্যবস্থা নেবে : প্রধানমন্ত্রী

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আশেকুর রহমান জানান, বাঘড়ায় কয়েকটি রাস্তার কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাজ বরাদ্দ দেওয়া। মাটি কোথা থেকে আসবে এটা ঠিক করবেন চেয়ারম্যান। চর থেকে মাটি আসছে কিনা আমার জানা নেই। চরের মালিক এসিল্যান্ড। এ ব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। চরের মাটি কাটার পেছনে যদি কোন ব্যক্তি স্বার্থ জড়িত থাকে তাহলে সেটা আইনত অপরাধ। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন