শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পটলের ফলন-দামে স্বস্তিতে চাষি

পটলের ফলন-দামে স্বস্তিতে চাষি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে পটল ফলনে-দামে খুশি পটল চাষিরা। উপজেলায় সব ধরনের সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম পটল। কৃষকরা ক্ষেত পরিচর্যা ও পটল তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজার দর ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চৈত্র, বৈশাখ মাস থেকে পটল উঠানো শুরু হয়। অনুকূল আবহওয়ায় চলতি মৌসুমে পটলের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজার দর ভালো পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন চাষিরা। প্রতি কেজি পটল খুচরা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। উলিপুর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে পটল চাষ হয়েছে। কার্তিক মাসে জমিতে মাচা করে লাগানো পটলের সারিসারি ক্ষেত দেখলে কৃষকসহ সকলের মন ভরে ওঠে। মাচায় মাচায় ঝুলছে কৃষকের স্বপ্ন। রাস্তার দুপাশে যতো দুর চোখ যায় পটলসহ সাথী ফসলের ক্ষেত। শুধু পটল নয় একই মাচায় ঝুলছে চিচিংঙ্গা, ধুন্দল, করলাসহ নানা জাতের সাথী ফসল। উপজেলায় হাট বসে পৌরসভার ভিতরে কাচা সবজির আরোদে। সেখান থেকে পাইকাররা ভ্যান, রিক্সা ও সাইকেল ভর্তি করে কিনে নিয়ে যান বিভিন্ন হাঁট বাজারে।

উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়েনের টাপুরকুটি গ্রামের পটল চাষি আইয়ুব আলী বলেন, ধান কিংবা অন্য ফসলে ঝামেলা বেশি। তাই এবার মাচায় যে পটলের চাষ শুরু করছি। প্রথম অবস্থায় ৮ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছি তারপরেও আরও অন্তত ২০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করতে পারবো মনে করি। তাতে খরচ বাদ দিয়ে আমার লাভ হবে অন্তত ৩০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  ১২ মার্চ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চার লেন উদ্বোধন

উপজেলার থেতরাই ইনিয়নের সাতদরগাহ গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ বলেন, আমার চার বিঘা ভাতি জমি আছে। তাতেই আমি সব মৌসুমে ধানের ফলন ফলাই। তবে, লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এক বিঘা জমিতে পটল চাষ শুরু করি। তাতে করে আমার বাজারে কাঁচা বাজারের জন্য বাজার যেতে হতো না। এখন সেই জমি থেকে প্রতি সপ্তাহে আমি নগদ টাকা পাই। তাই দিয়ে আমার ছেলে মেয়ের শিক্ষা খরচসহ সংসারে যাবতীয় খরচ মিটায়ে যেতো। এখন শুধু আমার পারিবারে জন্য যে কয় মণ ধান লাগে তার জন্য ধানের আবাদ করি। তাছাড়া সব জমিতে এখন সবজি আবাদ শুরু করেছি। এখন আর দেনা করে সংসার চলাতে হয়না। এখন আমার হাতে নগদ টাকা থাকে সবসময়।

উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের উমানন্দ ক্বারিপাড়া গ্রামের পটল চাষি আফসার আলী বলেন, তিনি এবার তার ২ বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। পটল চাষে ঝামেলামুক্ত এবং অল্প খরচেই হয় বলে এ আবাদ বেশ লাভজনক। পটল মানেই নগদ টাকার আবাদ। লাভের অংশ বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই কৃষকদের মাধ্যে পটল চাষের আগ্রহ বাড়ছে। আতিমাত্রায় বৃষ্টি বা বন্যা না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে পটল আবাদ হয়েছে। এক বিঘার জমি থেকে সপ্তাহে ৫ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত পটলের উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়াও পটলের মধ্য আদা, কাচা মরিচ, হলুদ, আদা, মুখিকচু আবাদ করছেন তারা। বিক্রি করেও নিজের চলে যায়।

উলিপুর কাচা বাজারে আরদের পটল ব্যাপারী আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, ঢাকা থেকে পটল কিনতে আসে অনেকে। হাটবারে পটল কিনে রাতেই নিয়ে যাবেন। উৎপাদনের শুরুতেই বাজারে প্রতিমণ পাটল এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হলেও এখনো তা ৮শ থেকে ৬শ পঞ্চশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমরা কম লাভে আড়তে বিক্রি করি। কাঁচামালের ব্যবসা ভালো মন্দ দুই আছে। সে কারণে প্রতিদিন কিনি প্রতিদিন বেচি।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে কালেক্টরেট সহকারীদের তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি

উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ জনাব সাইফুল ইসলাম জানান, এবার উপজেলায় ১২ হেক্টর পটলের চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন ১০ থেকে ১৫ মেট্রিক টন। সরকার এ সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলে পারলে এ চাষ আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন