বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিলুপ্ত হচ্ছে বৈচিত্র্যময় দেশি প্রজাতির ধান

বিলুপ্ত হচ্ছে বৈচিত্র্যময় দেশি প্রজাতির ধান

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষকের হাত থেকে হারিয়ে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির ধান। অতীতের বিভিন্ন প্রজাতির ধানের নাম বতর্মান প্রজন্মের কাছে রুপ কথার গল্পের মতো। অথচ আজ থেকে প্রায় কয়েক দশক আগেও নিয়ামতপুরের কৃষকের কাছে চিরচেনা ছিল দেশি ধান। অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকেরা গোলায় তুলতেন পাইজাম, পরিজাত, ঝিঙ্গাশাইল, লতাশাইল, মনগিরিসহ নানা প্রজাতির ধান। আবার বোরো মৌসুমে কালো বোরা, সাদা বোরা, লালডিঙ্গিসহ নানা প্রজাতির ধান ছিল।

উল্লেখিত ধানগুলো এখন জমিতে কম ফলন হয় বলে, কৃষকেরা উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে ঝুঁকছে। কৃষকেরা এখন উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এখনকার ধানের তুলনায় আগের ধানের ভাত সুস্বাদু। সুগন্ধী এ ধান ঘরে উঠানোর পর কৃষানিরা ভাত ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে নিজেরা তো খানই, সেই সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকেও আপ্যায়ন করে থাকেন। বিশেষ করে জামাই এলে এ ভাত দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। তাই ঐতিহ্যবাহী আটালো এ ভাতকে জামাইভাতও বলেন কেউ কেউ।

প্রগতিশীল লোকেরা মনে করেন, দেশি বীজের পরিবর্তে বিভিন্ন কোম্পানি আর বহুজাতিক কোম্পানির নতুন বীজ প্রতি বিঘাতে অন্যান্য ধানের তুলনায় অধিক ফলন ফলে। আর এভাবে গ্রাম বাংলার কৃষকেরা তাদের বীজ বাদ দিয়ে কোম্পানির বীজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আজ থেকে কয়েক দশক আগেও কৃষকেরা বীজের জন্য অন্যের কাছে ধরনা দিতে হতো না। তাদের উৎপাদিত ধানের পুষ্ট দানাগুলো রোদে শুকিয়ে পলিথিন দিয়ে বস্তার মধ্যে যত্ন সহকারে রেখে দিত।

আরও পড়ুনঃ  উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা

উপজেলার কৃষকরা জানান, আমরা কয়েক দশক আগে যে ধানগুলো চাষ করতাম। সেই ধানে ভাত ও পিঠা খুব সুস্বাদু ছিল। আগের ধানগুলো এখন জমিতে চাষ করলে রোগবালাই বেশি হয়, ফলন কম হয়। অথচ এখন যে ধান চাষ করি, সেই ধানের ফলন বেশি হওয়ায় ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তারা আরোও জানান, কম উৎপাদিত হয়, এমন ধান চাষ করলে উৎপাদন খরচ জোঁটে না। কয়েক দশক আগের ধানের নামগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে রুপ কথার গল্পের মতো।

উপজেলা কৃষি অফিসার আমীর আব্দুল্লাহ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কয়েক দশক আগে যে ধানগুলো জমিতে চাষ করা হতো,এখন সেই ধানগুলো আর চাষ করা হয় না। কারণ সে ধানগুলোতে রোগবালাই বেশি ও গাছপাত লম্বা হওয়ায় একটু বাতাস হলে মাটিতে নুয়ে পড়ে ফলন কমে যায়। কৃষকের উৎপাদন খরচ জোঁটে না। ফলে কৃষকেরা এখন উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে ঝুঁকছে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন