ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধীরগতিতে ড্রেন নির্মাণে জনদুর্ভোগ

ধীরগতিতে ড্রেন নির্মাণে জনদুর্ভোগ

নীলফামারীর ডিমলা সদরের বাজার এলাকায় সড়কের উভয় পাশে ড্রেন নির্মাণ চলছে ধীর গতিতে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বাবুরহাট বাজার এলাকার বাসিন্দাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাবুরহাট বাজারের  বিজয় চত্বরের মোড় থেকে শুঠিবাড়ি মোড় ও টিএনটি মোড় পর্যন্ত (ডিমলা-রংপুর) সড়কের দুই পাশে ৪৯০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করার জন্য ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় নীলফামারীর ঠিকাদার আমিনুল হক।তবে কাজটি করছেন রাকিবুল ইসলাম অনিক। সাব-ঠিকাদার হিসেবে তিনি এই ড্রেন নির্মাণ কাজ করাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সদর এলাকা হওয়ায় এখানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া মসজিদ, মার্কেট ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন অফিস এ সড়কের পাশে অবস্থিত। নির্মাণ কাজের ধীর গতির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে আসা সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবিসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ড্রেন নির্মাণের জন্য খননকৃত খাল দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে ডিমলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেটের চারতলা ভবনের প্রায় ১০০ মিটার সিঁড়ি। এতে ক্ষতি হবে কয়েক লক্ষ টাকা।

বাবুরহাট বাজারের বাবু, জাহঙ্গীর, মোশারফসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, একটু বৃষ্টি হলেই কাদামাটি রাস্তায় চলে আসায় গাড়ি চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। ড্রেনের উপর যে চরাট করে আমরা চলাচল করছি তাতে দোকানের মালামাল ভেতরে আনা ও বের করা খুব কঠিন। ৮০ ভাগ বিক্রি কমে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। যে কোনো সময় মসজিদ মার্কেটের সিড়ি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয়রা জানায়, শুরুতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ তোরজোরের সাথে চললেও নির্মাণ কাজ চলে মন্থর গতিতে। অল্পকিছু শ্রমিক দিয়ে এ কাজ চলতে থাকে। এখন বেশ কিছুদিন হলো ওই কাজ বন্ধ হয়ে আছে। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

বাবুরহাট বাজারের বাসিন্দা মাসুদ বলেন, ড্রেন নির্মাণ কাজে তেমন কোন অগ্রগতি নেই। আমাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারে ঢোকা যায় না। ভারী কোনো জিনিসপত্র বাজার থেকে আনতে হলে খুব বিপদে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

রাস্তার পথচারী ইদ্রিস আলী বলেন, ড্রেন নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে না পাড়লে বর্ষায় এ রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারবে না। আর ড্রেন ঢালাইয়ের রড যে ভাবে বের হয়ে আছে তাতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সাব ঠিকাদার অনিক জানান ,আমাদের নির্মাণ কাজ কয়েকদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। নানা কারণে একটু দেরি হচ্ছে। দুই একদিনের মধ্যে নির্মাণ কাজ চলমান হবে।দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম জানান, কাজের মেয়াদ এখনও আছে। তবে যেহেতু জনসাধারণের দুর্ভোগ হচ্ছে আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলবো ওই কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন