শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাঁচ গ্রামের দুঃখ সাঁকো

পাঁচ গ্রামের দুঃখ সাঁকো

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সদর উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষের পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে চেঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি এখন ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের দাবা ফাদা পাড়া, ধনপাতা পাড়া, রাঙ্গাপানি ছড়া, ক্যায়াংঘাট গুচ্ছগ্রাম ও মহাজন পাড়া গ্রামের মানুষদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। সাঁকোর মাঝখানে ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে তারপরও বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার করতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, মহালছড়ি সদর ও জেলা সদরে যেতে হলে এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি উপর দিয়েই যেতে হয়। এছাড়া স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী, সরকারী-বেসরকারি চাকুরীজীবি, এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে হাট-বাজারে যেতে হলে এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি ছাড়া পারাপারের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই এ ৫ গ্রামবাসীর। বিশেষ করে জরুরি অবস্থায় কোনো রোগী হাসপাতালে নিতে হলে মহাবিপদের সম্মূখীন হতে হয়।

সরকারি চাকুরিজীবি নিক্কন খীসা বলেন, এ এলাকার জনসাধারণে জন্য এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এলাকার এ সমস্যাটি নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহনের কোনো লক্ষন নেই। অথচ  বর্তমান সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করে চলেছেন।

স্থানীয় পাড়ার কার্বারী শিশির বিন্দু চাকমা বলেন, এ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে চেঙ্গী নদীর উপরে পারাপারের জন্য কোনো সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকাবাসী চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া উৎপাদিত ফসলাদি সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন না কৃষকেরা। এলাকার যে কোনো রোগি জরুরীভিত্তিতে উপজেলা সদর হাসপাতাল কিংবা জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোনমতে চলাচলের জন্য একটি ফুটব্রিজ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরের এক কর্মকর্তা

দাবা ফাদা গ্রামের বাসিন্দা গরুর দুগ্ধ খামারের মালিক ত্রিশঙ্কু খীসা বলেন, চেঙ্গী নদীর উপড় সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে অনেকবার দুধ নষ্ট হয়েছে। এরকম অনেক কৃষকের উৎপাদিত তরিতরকারি কাঁধে বহন করে বাজারে  নিতে গিয়ে বাঁশের সাঁকো থেকে পিছলে পড়ে যাওয়ার কথা সবার জানা আছে বলে জানান তিনি।

মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার শীল ও ক্যায়াংঘাট ইউপি চেয়ারম্যান রুপেন্দু দেওয়ান বলেন, ওই এলাকায় অন্তত একটি ফুট ব্রিজের প্রয়োজন। চেঙ্গী নদীর উপর দিয়ে ফুট ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এত টাকা বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়। এখানে একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ফুট ব্রিজ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ দিতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন