শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাট ও নোয়াখালীতে প্রস্তুত ৬৩৭ আশ্রয়কেন্দ্র

বাগেরহাট ও নোয়াখালীতে প্রস্তুত ৬৩৭ আশ্রয়কেন্দ্র

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অসনি মোকাবেলায় বাগেরহাটের প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে শুরু করেছে। দুর্যোগের সময় যাতে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে সে জন্য ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলা রাখা হবে। অপরদিকে, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজে পণ্য ওঠা নামার কাজ চলমান রয়েছে। মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার মো. ফকর উদ্দিন জানান, মোংলা বন্দরে বর্তমানে দেশি বিদেশি ৪টি জাহাজ অবস্থান করছে। জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে। ঝড়ের সিগনাল বৃদ্ধি না হলে বন্দরের সব কাজ স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। এছাড়া মোংলার কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ছোট বড় জাহাজগুলোকে বন্দরের অভ্যন্তরে রাখা হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী জানান, ঘুর্ণিঝড় অশনির পূর্বভাস পেয়ে জেলেরা কূলে ফিরেছে। আর যারা এখন ফিরতে পারেনি তারা পাশের নদী খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। জেলেরা আগের থেকে এখন অনেক সচেতন। তবে এ জেলেরা যখন গভীর সমুদ্রে থাকে তখন হঠাৎ কোনো দুর্যোগ আসলে তারা কোনো খবর পায় না। সম্প্রতি  কালবৈশাখি ঝড়ের কবলে পড়ে ১০ জন জেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, আবহাওয়া বিভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় অসনি’র পূর্বাভাস জারির পর তা মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্যোগের সময় যাতে স্থানীয় লোকজন আশ্রয় নিতে পারে সে জন্য জেলার ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কেন্দ্র পূর্বাচলে

বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ৫৯ হাজার ২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ৯৭টি রিপার দিয়ে জমি মালিকদের ধান কেটে দিতে সহযোগিতা করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলার ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। দুর্যোগে ক্ষতি হতে পারে তেমন কোন ফসল বর্তমানে মাঠে নেই। আর যা আছে তা রক্ষা করতে স্ব স্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা চাষীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘অসনি’ প্রভাব ও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালীর মঙ্গলবার ভোর থেকে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। দ্বিতীয় দিনেরমত গতকালও বন্ধ ছিলো দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাটসহ সকল রুটে নৌযান চলাচল। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল নৌ-যানকে উপকূলের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়কে সামনে রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় মোট ৪০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে উপকূলের মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের সেবায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার সেচ্ছাসেবী।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন