শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈদে পর্যটন বাণিজ্যে সুসংবাদ

ঈদে পর্যটন বাণিজ্যে সুসংবাদ

করোনা কাটিয়ে উৎসব

  • দর্শনার্থীতে মুখর সারাদেশের পর্যটনকেন্দ্র

দুই বছর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ঈদ আনন্দে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিলো সারাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। এতে মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পর্যটনখাত। ঈদ উৎসবে পযর্টনবাণিজ্য নিয়ে সারাদেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন।

নরসিংদী প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্কটি ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশী-বিদশি পর্যটকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে মাতিয়ে রাখছেন পার্কটি। করোনায় সব কিছু শিথিল হওয়ায় ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীরা মুখরিত ছিলো পার্কর্টি । উচ্ছ্বাস আর আনন্দে তাদের মাঝে ছিল স্বস্তির ছোঁয়া। ঈদ উপলক্ষে পার্কটিতে সংযোজন করা হয়েছে নতুন নতুন রাইডস। এদিকে বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা পার্ক কতৃপক্ষের। তবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকছে পার্কটি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ২য় দিনে আনন্দ উৎসবে সপরিবার নিয়ে ঘুরতে এসছেন হাজারোও বিনোদন প্রেমীরা। ডিজে মিউজিকের সাথে ওয়াটার কিংডমে ঢেউয়ের তালে দুলে নেচে গেয়ে আনন্দ ফুর্তি করেছেন শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ। চলছে হৈ হুল্লোড়, দাপাদাপি আর আনন্দ-চিৎকার। বোঝা যাচ্ছে নগরের বাইরের এসে নরসিংদীর ড্রীম হলিডে পার্কে মনের আনন্দে চলছে ঈদ উদযাপন। দিনভর পানিতে গা ভাসিয়ে ও নানা রাইডে চড়ে ঈদের উৎসবটাকে অনুভব করেছেন বিনোদন পিয়াসীরা। এইদিকে শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য নানা আকর্ষণীয় রাইডের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষ্যে এবার সংযোজিত হয়েছে নতুন রাইড স্কাই ট্রেন। উৎসবের এই আড্ডায় পরিবার পরিজন অনেকেই চড়ছেন প্যাডেল বোটে, ঘুরে ঘুরে দেখছেন ভূতের রাজ্য। এদিকে হিমালয় পর্বতের সাদৃশ্য ‘ফেনটম হিল’ দেখে মুগ্ধ হচ্ছে অনেকেই। পাশাপাশি রয়েছে, ড্রিম আইকন, ক্যাবলকার, ওয়াটার রয়েলকার, বুলেট ট্রেন, রোলা কোস্টার, আইচ পাহাড়সহ নানা আকর্ষণীয় রাইডস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বিনোদনের নানা বৈচিত্র্যময় রাইডসে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন দর্শনাথীরা।

পার্ক কতৃপক্ষ জানায়, ২০১২ সালের মাত্র পাঁচটি রাইডস দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া এ পার্কটি গত ১০ বছরে দেশের অন্যতম সেরা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে প্রায় ১২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এ পার্কটিতে রয়েছে ২৫ টি আকর্ষণীয় রাইডস। এবছর ঈদ উপলক্ষ্যে এবার স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে চলছে স্কাই ট্রেন। এ পার্কে রয়েছে বুলেট ট্রেন, এয়ার বাইসাইকেল, সোয়ান বোট, ওয়াটার বোট, রোলার কোস্টার, সুইং চেয়ার, স্পিডবোট, বাম্পার কার, নাইনডিসহ  উচ্ছাসিত শিশুসহ সব বয়সের দর্শনার্থী। চড়ছেন প্যাডেল বোটে, ঘুরে ঘুরে দেখছেন ভূতের রাজ্য । 

এ পার্কে আরোও রয়েছে নাগেট ক্যাসেল, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়ারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ, পার্কে শিশু-কিশোরদের জন্য একাধিক রাইডস, সুবিশাল লেক, হংসরাজ প্যাডেল ও জেট ফাইটার বোট, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশবেষ্টিত নয়নাভিরাম ক্যানেল, রকিং হর্স, ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা ও সরকার প্রদত্ত নিরাপত্তা কর্মীর তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ। রয়েছে বিশাল গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা, নিজস্ব কটেজ ও সুপ্রশস্ত বাংলো। এ পার্কে প্রবেশ করতে হলে বড়দের গুনতে হবে জন প্রতি ৩২০ টাকা ও ছোটদের (৩-৮ বছর) গুনতে হবে ২২০টাকা করে। ওয়াটার পার্কে আনন্দ করতে গুনতে হবে আরোও ৩২০টাকা। এছাড়াও প্রতিটি রাইডে আনন্দ উপভোগ করতে হলে ৬০-১১০টাকা লাগবে।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আলমগীর মিয়া বলেন, গত দুই বছর করোনার কারনে ঈদ আনন্দ করতে পারিনি। সরকারি বিধি নিষেধ থাকার কারনে সে সময় বিনোদন কেন্দ্রগুলো খোলা ছিলনা। ও সময়টা আমরা সবাই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঘর বন্দিই ছিলাম। যেহেতু এবার করোনা স্থিতিশীল আছে, নেই কোন সরকারি বিধি নিষেধ, বিনোদন কেন্দ্রগুলো চালু আছে তাই পরিবার নিয়ে এই পার্কের ঈদ আনন্দ করতে এসেছি।

সিলেট থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মো. মশিউর রহমান বলেন, বুলেট ট্রেন, সোয়ান বোট, ওয়াটার বোট, রোলার কোস্টার, স্পিডবোট, বাম্পার কার এই রাইর্ডস গুলো উপভোগ করে খুবই ভালো লাগছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দযে ভরা এই পার্কের দৃষ্টি নন্দিত করে তোলেছে। এখানে ছোট বড় সবাই মিলে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেছে তা দেখে আমারও ভালো লেগেছে।

আরও পড়ুনঃ  অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি ১০ লাখ

নরসিংদী ড্রিম হলিডে পার্কের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা জানান, ঈদের বিনোদন প্রেমীদেরকে আরো আকৃষ্ট করতে পার্কটিতে সংযোজন করা হয়েছে বেশকিছু নতুন রাইড।  পরিধিও বাড়ানো ও আন্তজার্তিক মান ধরে রাখার জন্য যা করণীয় সব রকম কাজ আমরা করবো। ড্রিম হলিডে পার্কে রয়েছে একাধিক পিকনিক ভেন্যু, শুটিং স্পট, ২৫টি অ্যাডভেঞ্চার রাইডস, ওয়েভ ওয়াটার পার্ক ও এক্সক্লুসিভ কটেজ। এবছর দর্শনার্থীদের যে আগমন ঘটেছে তা যদি ধরে রাখা যায় তাহলে বিগত করোনা সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে দিবে।

নওগাঁ প্রতিনিধি

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নওগাঁর বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমণ ছিল চোখে পড়ার মত। সরজমিনে বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেকটি কেন্দ্র যেন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। পিকআপ, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাকযোগে পর্যটকদের আগমণ ছিল চোখে পড়ার মত।  ঈদের দিন জেলা পরিষদ পার্ক, আব্দুল জলিল পার্ক, ডানা পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, হলুদ বিহার, ধামইরহাটের আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান, মান্দার কুশুম্বা মসজিদসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল নজর কারার মত। গতকাল শনিবারও বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে হাজারও দর্শনার্থীদের।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এর আদি নাম সোমপুর বিহার। এখানে সারা বছর দেশ ও বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংকট কেটে প্রায় দীর্ঘ দুই বছর পর আবারো নতুন করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ। ইতিমধ্যে গত শুক্রবার বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মি. আইটিও নাওকি এ স্থান পরিদর্শন করেন। এছাড়াও  বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকসহ দেশের বিশিষ্টজনরা  ঈদে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ভ্রমণ করেছেন। আগের চেয়ে অনেক আধুনিকায়ন হওয়ায় পাহাড়পুরের পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসক এর আয়োজনে ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে চালু হওয়া ট্যুরিস্ট বাস “ভ্রমণ বিলাস” নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণের ুক্ষেত্রে পর্যটকদের মাঝে এক নতুন মাত্রাযোগ করেছে। 

বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, সত্যিই পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও তার পরিবেশ খুবই সুন্দর। তবে এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের খুবই সমস্যা। কিন্তু আজকের দিনে এমন ঐতিহাসিক স্থানে এমন সমস্যা সত্যিই খুবই দুঃখজনক। এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আমি এখানে এই প্রথম এসেছি। হাজার বছর আগের কীর্তি দর্শন করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এখানকার মুক্ত পরিবেশ আর সুন্দর্য যা দেখে সত্যি আমি মুগ্ধ।

গতকাল বিকেলে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে শত শত বিনোদনপ্রেমী মানুষকে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে আরো আধুনিকায়ন করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগের পাহাড়পুর কি ছিলো আর এখন কেমন পরিবর্তন করা হয়েছে। অতিদ্রুত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা সমাধান করে এটিকে পর্যটকদের কাছে আরো আর্কষণীয় করতে যা যা করা প্রয়োজন তা করা চেষ্টা চলছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

দুই বছর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ঈদ আনন্দে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা তিস্তা ব্যারাজ এলাকা। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিস্তা ব্যারাজের দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। ঈদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে তিস্তা ব্যারাজে বিনোদন পিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভির লক্ষ্যনীয়।

সকাল হলেই তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় দর্শনার্থীদে ভীর। দর্শনার্থীরা দুরদুরান্ত থেকে আসছে মটর সাইকেলে অটোরিকশায়, বাস, মাইক্রো, কার, সিএনজিতে। ব্যারাজ এলাকায় জমে উঠেছে বিভিন্ন দোকান পাট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে তিস্তা বুকে ৪টি স্পিডবোর্ড চলছে দ্রুত বেগে এপাশ থেকে ওপাশ। হৈ হুল্লোরে মেতে উঠছে সবাই। আর বড় বড় ঢেউ এসে ধাক্কা দি”েছ তিস্তার কূলে। ছিটকে আসা জলরাশি আনন্দে মেতে উঠছে সবাই। ঈদের উৎসবে রঙিন হয়ে উঠেছে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের মন। এদিকে আনন্দের মাত্রা বাড়াতে ক্যামেরা ও মোবাইলে ক্লিকে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকায় নরেন্দ্র মোদি

তিস্তা নদীতে বিনোদনের জন্য স্পিডবোর্ড ও পালতোলা নৌকায় জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকায় দর্শনার্থীদের নিয়ে তিস্তার বুকে ভেসেছে। এমন দৃস্য চোখে পরার মত।

দুই বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ঈদে ঘরে ফেরা পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দে এই এলাকার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র তিস্তা ব্যারাজপার জুড়ে শুধুই মানুষের ঢল। কচি-কাঁচা,তরুণ-তরুণী,শিশু কিশোর,বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এ  যেন  সত্যিই  এক  মিলন মেলা।

তিস্তা ব্যারাজ জুড়ে বসেছে দোকানের হাট। নানা রকম পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। বিভিন্ন খেলনা, বাঁশি, বেলুন, মাটির গাড়ি,খাবারের দোকান, নদীর বুকে ভাসমান বিলুপ্ত আশির দশকের বেশ কিছু পাল তোলা নৌকা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।

ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীর সাথে কথা হয় তাড়া বলে, করোনা ভাইরাস ও লকডাউন থাকার ফলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়না তাই ঈদ উপলক্ষে গ্রামে এসে  পরিবারপরিজন নিয়ে তিস্তা ব্যারাজে ঘুরতে আসছি।

ঘুরতে আসা তানিয়া বলেন, স্পিডবোড এই প্রথম উঠে অনেক আনন্দ করছি। করোনার কারনে গত দুই বছর এখানে আসতে পারি নাই।

প্রকৃতি ও বিনোদন প্রেমীর জন্য অত্যন্ত ভালো বিনোদনের জায়গা তিস্তা ব্যারাজ। প্রতি বছর ঈদ এলেই তিস্তা ব্যারাজ স্পটে মানুষের ভিরে কানায় কানায় পূর্ণ। প্রাণ ফিরে পায় তিস্তা ব্যরাজ।

যশোর সংবাদদাতা

উপচেপড়া দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু ও জেলা প্রশাসক নামের দুটি ভাসমান সেতু। ঈদের ছুটিতে বিনোদন পিপাসু দর্শনার্থীরা প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ভাসমান সেতুতে এসেছেন।

ঈদের দিন বিকেল থেকে রাজগঞ্জ ভাসমান সেতুতে দর্শনার্থীদের ঢল নামতে থাকে। সকাল থেকে দর্শনার্থীরা সেতুতে আসতে থাকে এবং ঘোরাঘুরি করতে থাকে। সেতুতে এসে দর্শনার্থীরা পার্কের উন্মুক্ত বাতাসে ভ্রমণ করছে। দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পর্যটন নগরী রাজগঞ্জ। ঈদের লম্বা ছুটিতে রাজগঞ্জের ভাসমান সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছে দর্শনার্থীরা। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে ঝাঁপা বাঁওড়ে নৌকা ভ্রমণ করে আনন্দ উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই দল বেঁধে, আবার অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরছে সেতুতে। ছবি তুলছেন সবাই। কেউ বন্ধুর সাথে, কেউ প্রেমিকের সাথে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে। রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাঁওড়ের নিস্তব্ধ প্রকৃতিতে ঘুরে দর্শনার্থীদের মন ভরে যাচ্ছে।

 সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা থেকে ভাসমান সেতুতে ঘুরতে আসা আব্দুর রহমান বলেন- প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এসময়ে বাঁওড়ে পানি কম থাকায় প্রকৃতির সৌন্দর্য মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।

যশোরের রুপদিয়া থেকে আসা দর্শনার্থী সুমন হোসেন বলেন, দেশের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। তারপরও রাজগঞ্জের এই সেতুর প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে খুবই ভালো লাগছে। রাজগঞ্জের ভাসমান সেতুকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে রাজগঞ্জ বাজারে যানজট লক্ষ্য করা গেছে। দর্শনার্থীবাহী বিভিন্ন যানবাহনগুলো পার্কিং করছে রাস্তার পাশেই। যে কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। কম-বেশি দুর্ঘটনাও ঘটছে। জেলা প্রসাশক ভাসমান সেতুর টিকিট কাউন্টারে বসা, সেতু কমিটির একজন সদস্য বলেন, এই ঈদে আশানুরূপ দর্শনার্থী সেতু দেখতে এসেছেন। আমরা যথাসাধ্য দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিকে মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন থেকে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে আসা আশিকুর রহমান বলেন- আগে এই সেতুতে বেড়াতে এসেছি, তখন টিকিটের মূল্য ছিলো পাঁচ টাকা। এবার দশ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই ভাসমান সেতুকে ঘিরে সেতুর উভয় প্রবেশমুখে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী, খেলনা সাজিয়ে রেখেছেন মৌসুমী দোকানদারেরা। ঝাঁপার পাড়ের সেতু পার্কে কয়েক রকম দোলনা ও নাগরদোলা বসানো হয়েছে।

এক মৌসুমী দোকানদার তারেক রহমান বলেন, ঈদের দিন থেকে সেতু দেখতে যথেষ্ট দর্শনার্থী আসছেন এখানে। বেচা-বিক্রিও মোটামুটি ভালো। সেতুতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সেতুর প্রবেশমুখে রয়েছেন স্থানীয় পুলিশের সদস্যরা। তারা সবসময় সতর্ক রয়েছে।

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঈদের ছুটিতে ঈদ উৎসবের ভিড় জমেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। মঙ্গলবার ঈদের দিন থেকে স্থানগুলোতে ছিলো উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের দিন বৃষ্টির হানায় দর্শনার্থী ছিল কম। তবে সেই তুলনায় ঈদের পরদিন সকাল থেকেই মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিলো পুরো এলাকাজুড়ে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। বিশেষ করে কচিকাঁচার হৈ-হুলোড়ে মুখর ছিল মরুদ্বীপ ৭১ স্বাধীনতা পার্ক, পাইকান ব্রিজসহ উপজেলার বিভিন্ন  বিনোদন কেন্দ্রে। এসবের পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ ভীড় জমান নরসিংদী এলাকায় ¯’াপিত ড্রিম হলিডে পার্কে ও কিশোরগঞ্জে আব¯ি’ত নেহাল পার্কে। এ ছাড়া আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লাসহ ঐতিহাসিক ¯’ানসহ অন্যসব বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিল লোকে লোকারণ্য। ঈদের দিনও বিনোদনপ্রেমী মানুষের ব্যাপক সমাগম ছিল এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফের বাড়লো লকডাউন, পুলিশ পাচ্ছেবি চারিক ক্ষমতা

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের দিন থেকেই ভীড় জমতে থাকে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে। সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে আসেন বিনোদনপ্রেমীরা। মেতে ওঠেন আনন্দ আড্ডা আর খুনসুটিতে। ঈদের তিন দিনে এসব স্থানে সাড়ে চার লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। অতিরিক্ত মানুষে প্রধান সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের ভিড়ে ফুটপাত দিয়েও হাঁটাচলার সুযোগ ছিল না। ঈদের দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ। প্রতিদিন দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। উপজেলা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নামে লেখা ব্যানার সংবলিত গাড়িগুলোতে বিনোদনপ্রেমীদের মাইক ও সাউন্ড বাজিয়ে নেচে গেয়ে হৈ হুল্লোড় ও আনন্দ করতে দেখা গেছে। পার্কজুড়ে বসেছে দোকানের হাট। নানা রকম পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। বিভিন্ন খেলনা, বাঁশি, বেলুন, মাটির গাড়ি ও খাবারের দোকান। নদীর বুকে ভাসমান বিলুপ্ত আশির দশকের বেশ কিছু পাল তোলা নৌকা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। ঈদের দিন থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকা ভ্রমণে বের হন অনেকেই। কেউ নদীর তীরে বসে বন্ধুবান্ধব নিয়ে চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। তবে বেলা যতই গড়িয়ে গেছে ততই বাড়তে দেখা গেছে মানুষের ঢল।

মরুদ্বীপ ৭১ স্বাধীনতা পার্কের কর্মকর্তা জানান, ঈদুল ফিতরের  দিন পার্কে প্রবেশের জন্য বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ভীড় ছিল। তবে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারির কারণে পার্কে প্রবেশের ক্ষেত্রে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা। পার্ক খুলে দেওয়ার আগে থেকেই সেখানে ভীড় জমান দর্শনার্থীরা। এর মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীদের বিনা টিকিটে পরিদর্শন করার সুযোগ রেখেছে সরকার।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এসএম শাহাদাত বলেন, ঈদে বিনোদন স্পটগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কেউ ঘটালে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুর প্রতিনিধি

ঈদের ছুটিতে শেরপুরের পর্যটন  কেন্দ্রগুলো প্রকৃতিপ্রেমী দর্শণার্থীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে । জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড় এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। পর্যটকদের খুব সহজেই আকৃষ্ট করে জেলার ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র,  নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক , পানিহাতা তাড়ানি ও শ্রীবরদীর রাজার পাহাড়ের  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য । এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে অপরূপ রূপের চাদর মোড়ানো পাহাড় । ছোট-বড় ও মাঝারি টিলা, সমতল ভূমির সেগুন বাগান আর লতাপাতার সবুজের সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমীদের দোলা দিয়ে যায়। গারো পাহাড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি। শেরপুর জেলার সীমন্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীর ঐতিহ্যবাহী  গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত গজনী অবকাশ কেন্দ্র । সারি সারি শাল, গজারী, সেগুন, ছোট-বড় মাঝারি টিলা, লতাপাতার বিন্যাস প্রকৃতি প্রেমিদের নিশ্চিত দোলা দিয়ে যাবে । মধুটিলা ইকোর্পাকটির  প্রধান ফটক পেড়িয়ে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে সারি সারি গাছ। রাস্তার ডান পাশে খোলা প্রান্তর আর দু-পাশে রকমারি পণ্যের দোকান। সামনের ক্যান্টিন পার হলেই পাহাড়ী ঢালু রাস্তা। এরপরই হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কণ্যা, মাছ ও পাখির ভাষ্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি লেকের দিকে চলে গেছে। তারপর ষ্টার ব্রিজ পেরিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে আরোহণ করলেই নজর কেড়ে নেয় ভারতের উঁচু নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমন পিয়াসীরা।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন