শুক্রবার, ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকখাতে ‍ঋণ বেড়েছে সরকারের

ব্যাংকখাতে ‍ঋণ বেড়েছে সরকারের

করোনা মহামারির ক্ষত কাটিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশে অবকাঠামো নির্মাণে গতি ফিরে আসে। এতে নির্মাণ খাতের উপকরণের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে দামও বেড়ে যায়। যার ফলে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় বাড়তে থাকে। এর ওপর আবার সরকারের মেগাপ্রকল্পগুলোর কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ায় অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ বেড়েছে।

মূলত, করোনার প্রকোপ কমে আসার পর শিল্পকারখানা অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে সচল হয়েছে সেভাবে সরকারের রাজস্ব আদায়ের হার বাড়েনি। সেজন্য সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ ও বার্ষিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে (এডিপি) অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। এজন্য ব্যাংক খাত থেকে ঋণ বেড়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকায়। অথচ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ কোটি টাকার মতো। হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২৪.৬৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের শেষে বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ করতে হয় সরকারকে। সেজন্য ডিসেম্বরে এসে ঋণ বেড়ে গেছে। তবে নতুন বছরে আবার কমে আসবে। কারণ হিসেবে তারা দেখাচ্ছেন, জানুয়ারি মাসের অ্যাকশন ক্যালেন্ডারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে টাকা উত্তোলনের পরিমাণ খুবই কম দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আবার গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনার প্রভাবে সারাদেশেই লকডাউন জারি ছিল। উন্নয়ন বাজেটের ব্যয় ছিল একেবারেই শ্লথগতিতে। যে কারণে বিগত অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ঋণ নিয়েছে মাত্র ২৬ হাজার কোটি। যদিও আগের অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ছিল ৭২ হাজার কোটি টাকার বেশি।

আরও পড়ুনঃ  জমিসহ ভূমিহীন-গৃহহীনরা পেলো আরও ২৬ হাজার ঘর

সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাসিক ভিত্তিক এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে সরকার ব্যয় করেছে ৪৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৮ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। শতাংশ হিসেবে বেড়েছে প্রায় ১৪.৫২ ভাগ। একই সঙ্গে তার আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৬ শতাংশের বেশি।

সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণ নির্ধারণ করেছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে ঋণ নিয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে আগের ঋণের পরিশোধ ছিল ১৪ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। সে হিসেবে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। সরকারের চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। বাজেটের আয়-ব্যয়ের বিশাল ঘাটতি পূরণে প্রধান ভরসাস্থল ব্যাংক খাত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরের নভেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। যা গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। করোনার কারণে বেসরকারি ঋণের হার নেমে এসেছিল সর্বনিম্নে। তবে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে খাতটি। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে শরিয়াভিত্তিক ইসলামি বন্ড ‘সুকুক’ ছেড়ে ৩৪ প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছে সরকার।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সরকার প্রতি অর্থবছরেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারে। চলতি অর্থবছরেও রাজস্ব আদায় কম যা সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য করেছে। সরকারের অতিরিক্ত ঋণের ফলে বিদ্যমান তারল্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। এ পরিস্থিতি এড়াতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ  প্রান্তিকে রাকাবের আধুনিক সেবা

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন