ঢাকা | সোমবার
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে শতভাগ ই-পেমেন্ট

শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে শতভাগ ই-পেমেন্ট

মাঝে মাঝে কারিগরি ত্রুটির কারণে কাস্টমসের সফটওয়্যারে ই-পেমেন্ট সিস্টেম ধীরগতির হয়ে যায়। এতে শুল্ককর পরিশোধ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। এজন্য শতভাগ ই-পেমেন্ট সিস্টেম করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি সফটওয়্যারও যাতে শতভাগ গতিশীল থাকে সেটাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ কারণে দেশের সব শুল্ক স্টেশনে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ কার্যকর হচ্ছে ‘কাস্টমস ডিউটি ই-পেমেন্ট’ (ইলেকট্রনিক পেমেন্ট)।

এর আগে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে দুই লাখ টাকার উপরে শুল্ককর ই-পেমেন্ট সিস্টেমে পরিশোধ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো। সংশ্লিষ্টরা বলছে, এই সিস্টেম শতভাগ কার্যকর হলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে জাল-জালিয়াতি, শুল্ক ফাঁকি রোধ হবে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমদানিকারকদের কাছ থেকে শুল্ককর বাবদ সিএন্ডএফ এজেন্টদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়, আমদানি নথি প্রতি কাস্টম এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের টাকা আদায়সহ সব অনৈতিক কাজ কমে আসবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকারকরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইউজার আইডি দিয়ে আরটিজিএস গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই শুল্ক পরিশোধ করতে পারছেন। এর আগে ব্যাংকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে শুল্ককর পরিশোধ করতে হয়েছে। এতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিলো ব্যবসায়ীদের।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার বিল অব এন্ট্রি এবং বিল অব দাখিল হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। এর মধ্যে ২ হাজার আমদানি পণ্যের এবং ৫ হাজার রফতানি পণ্যের। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয় এই শুল্ক স্টেশনে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় হয়েছিলো ৫১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

সূত্রমতে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সীমিত আকারে ই-পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস একাধিকবার প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্টস, শিপিং এজেন্টস, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এসোসিয়েশনসহ আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়।

মূলত, ই-পেমেন্টের একমাত্র গেটওয়ে সোনালী ব্যাংক। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সফটওয়্যারের মাধ্যমে (শুল্ক সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সফটওয়্যার) আমদানিকারকের ইউজার আইডি ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ায় শুল্ক পরিশোধ করতে সময় লাগবে দুই মিনিট। প্রয়োজন হবে ছয় ধরনের তথ্য। বিল অব এন্ট্রি নম্বর, অর্থ বছর, কাস্টম হাউসের অফিস কোড, পরিশোধকৃত শুল্কের পরিমাণ, এজেন্ট আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (এআইএন) এবং ফোন নম্বর।

সিস্টেম এনালিস্ট মোহাম্মদ আহসান হাবিব সুমন বলেন, ই-পেমেন্ট সিস্টেমে আমদানিকারক দেশের যে কোনো ব্যাংক থেকে শুল্ক পরিশোধ করতে পারবেন। তফসিলি ব্যাংকের যে শাখা থেকে শুল্ক পরিশোধ করা হবে সেই ব্যাংকের সঙ্গে সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস শাখার মধ্যে গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) সিস্টেম।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে আমদানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ই-পেমেন্ট সিস্টেমে অভ্যস্ত হয়েছে। তাই নতুন করে প্রচারণা কিংবা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ ই-পেমেন্টে সিস্টেম কার্যকরের বিষয়ে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টরা অবগত রয়েছেন।

আনন্দবাজার/শহক

সংবাদটি শেয়ার করুন