- কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা
- আমদানিতে বেশি ব্যয়
- মজুদে টান পড়েছে
রংপুর অঞ্চলে চালের সাথে ঊর্ধ্বমুখী এখন পেঁয়াজের বাজার। পাইকারী ও খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কমপক্ষে ২০ টাকা। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে বাজারগুলোতে দেখা দিয়েছে পেঁয়াজের সংকট। শুক্রবার রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
পাইকারী কাঁচামাল বিক্রির সবচেয়ে বড় আড়ত রংপুর সিটি বাজার ঘুরে পেঁয়াজ সংকটের তথ্য পাওয়া যায়। বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রতিমণ ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারি এক হাজার ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে প্রতিকেজির দাম পড়ে ৩৬ টাকা। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। দেশি পেঁয়াজ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে। তাতে প্রতিকেজির দাম পড়ে ৬০ টাকা। খুচরা বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকা আর দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা।
এদিকে পেঁয়াজ কিনতে বাজারে এসে অনেকেই দাম বেশি ও সংকটের কারণে ফেরত গেছেন। নগরীর সিওবাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসে হতাশা প্রকাশ করেন সাদেক আলী নামের একজন ক্রেতা। তিনি বলেন, দাম বেশি দিয়েও বাজারে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সেই তুলনায় নতুন ওঠা পাতা পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম। সিটি বাজার, কামারপাড়া বাজার, কামাল কাছনা বাজার, শাপলা চত্বর বাজার, বাস টার্মিনাল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে একই চিত্র পাওয়া গেছে।
পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়া প্রসঙ্গে বিক্রেতারা বলছেন, ভারতের বেশ কয়েকটি প্রদেশে বৃষ্টিপাতের কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা অনেকটা বেশি দামেই ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করছেন। এতে বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের ফরিদপুর এলাকায় স¤প্রীতি বৃষ্টির কারণে দেশি পেঁয়াজচাষিরা মাঠ থেকে দেরিতে ফসল তুলছেন।
রংপুর সিটি বাজারের পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, এই দুই কারণেই বাজারে পেঁয়াজের মৌসুমেও দাম বেড়েই চলেছে। তবে পেঁয়াজ আমদানি বাড়লে দাম কমে আসবে। আড়তে যে পরিমাণ পেঁয়াজ ছিল, তা চাহিদানুযায়ী শেষের দিকে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজে অন্তত ২০ টাকা দাম বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতের ইন্দর, গুজরাট, মহারাষ্ট্র থেকে প্রতিনিয়তই পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই এলাকাগুলোতে অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকরা মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ তুলছেন না। এ কারণে বাড়তি দামে সেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতের ওই এলাকাগুলোতে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কারণে বন্দরে কিছুটা আমদানি কমে গেছে, ফলে বাজারে খুচরা দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
ব্যবসায়ী রায়হান কবির জানান, হিলি বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ২৮ ট্রাক পেঁয়াজ প্রয়োজন। কিন্তু তার বিপরীতে আমদানি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক পেঁয়াজ। এছাড়াও ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। বর্তমানে ভারতের পুরানো পেঁয়াজের শেষ সময় চলছে। আগামী জানুয়ারি মাসে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে, তখন দামও কমবে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজের খুচরা ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া বলেন, বাংলাদেশের বাজাওে পেঁয়াজের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে আমদানি কম হচ্ছে। শুধু ভারতীয় পেঁয়াজই নয়, দেশি পেঁয়াজেরও দাম বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে গত সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। যদিও ২৫ থেকে ২৮ ট্রাক পেঁয়াজের প্রয়োজন। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় আমদানি কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি।
আনন্দবাজার/এম.আর




